ফ্রান্স না মরক্কো? কে জয়ী হবে? আজ কে বিদায় নেবে এমবাপে না হাকিমি? এক মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় শুরু হবে বাঘে সিংহের আকর্ষণীয় লড়াই। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে এই বিশ্বকাপের সেরা লড়াইটা হবে আজ। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। কারো মতে ফেভারিট ফ্রান্স, কারো মতে চমকের স্বপ্ন দেখছে মরক্কো। সেই স্বপ্ন মরক্কো বাস্তবায়ন করতে পারলে সেটা হবে আরেক নতুন ইতিহাস। পুনরাবৃত্তি আর প্রতিশোধের ম্যাচ এটি।
গত বিশ্বকাপে এই দুই দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল। মনে করিয়ে দেই, ১৫ ডিসেম্বর কাতারের আল বায়াত স্টেডিয়ামে সেই খেলায় ফ্রান্স জয়ী হয়েছিল ২-০ গোলে। বিদায় নিতে হয়েছিল মরক্কোকে। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেই দুই দল মুখোমুখি। অর্থাৎ, বিশ্বকাপে আজ গতবারের রানার্সআপ দল ফ্রান্সের সাথে সেমিফাইনালে খেলা মরক্কোর খেলা। মরক্কোর হৃদয়ে আছে গতবারের পরাজয়ের ক্ষত। সেদিন ফ্রান্সকে পরাজিত করতে পারলে ফাইনালে উঠে যেত মরক্কো। কিন্তু সেদিন ব্যর্থ হয় মরক্কো। সেই ব্যর্থতা ও ব্যথা নিয়ে মরক্কো আজ বোস্টনে ফ্রান্সের মুখোমুখি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই অনিঃশেষ চাপ, উত্তেজনা আর অনিশ্চয়তার অন্য নাম। এখানে অতীতের অর্জন বা কাগজে-কলমের শক্তি অনেক সময়ই গুরুত্বহীন। একটিমাত্র মুহূর্ত, একটি নিখুঁত আক্রমণ কিংবা একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের গল্প। এমন নিষ্ঠুর বাস্তবতায় আজকের ম্যাচ।
অবশ্যই ফ্রান্স মাঠে নামবে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে। শক্তিশালী আক্রমণভাগ, সৃজনশীল মিডফিল্ড, অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতে। প্রতিপক্ষের রক্ষণপ্রাচীর ভেদের মতো অস্ত্র তাদের দলে রয়েছে। অধিনায়ক এমবাপে এবং ব্যালন ডি আর জয়ী উসমানে ডেম্বেলে এখন ভয়ংকর আক্রমণের যুগলবন্দী। অন্যদিকে মরক্কোর শক্তি সম্মিলিত আক্রমণ। এর বাইরে দলগত সংহতি, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ তাদের দলীয় সৌন্দর্য। সুযোগ কম পেলেও তা কাজে লাগানোর দক্ষতা রয়েছে তাদের। প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় মুহুর্তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আক্রমণের সামর্থ্য তাদের অসীম। তাই মরক্কো মরক্কোই। গতবারের মতো এবারেও তাদের দৃষ্টিনন্দন লড়াকু ফুটবল অনেকের মনে গেঁথে গেছে।
মধ্যরাতে দুই দলের লডাই তাই শুধু তারকার ঝলক নয়, হবে অভিজ্ঞতা, মাঠের নিয়ন্ত্রণ, নিখুুঁতভাবে রক্ষণ সামলানো, গোলপোস্টে অতন্দ্রপ্রহরীর আত্মবিশ্বাস এসবের অগ্নিপরীক্ষা। ফ্রান্স যদি নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারে, টার্গেট যথাযথভাবে ভেদ করতে পাওে তাহলে ফ্রান্স এগিয়ে যাবে। কিন্তু মরক্কো যদি রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে সফল হয়, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখা হতে পারে।
সবমিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে একটি উপভোগ্য লড়াই। যেই ফেভারিট হোক সবশেষ কথা হল জয়। বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজার আগে যে দল এগিয়ে থাকবে তারাই উঠবে সেমিফাইনালে। সে কথাই পুনর্ব্যক্ত করছিলেন সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু, ‘আজকের ম্যাচে যেকেউ জিততে পারে। কারো পক্ষেই কাউকে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই। খেলা হবে দুর্দান্ত। মানসিক দিক দিয়ে দুদলই সমান্তরাল। আক্রমণ ও পাল্পা আক্রমণে ভরপুর থাকবে ম্যাচ। আর ভুল হলেই সেই খেসারত দিতে হবে দুদলকে। প্রচণ্ডরকম গতিশীল এক ম্যাচ আমি বারবার কল্পনা করছি। যেখানে আক্রমণ আর প্রতি আক্রমণের তুমুল লড়াই প্রদর্শিত হবে। সম্মিলিত আক্রমণ থেকে দুদলই চাইবে নিজেদের সাফল্য ঘরে তুলতে।’
আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু আজকের ম্যাচ নিয়ে এভাবেই বললেন। তারপরও প্রশ্ন, দুদলের মাঝে কোন কোন বৈশিষ্ট্যে কিছুটা হলেও পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়? আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু বললেন, ‘দুদলই গ্ল্যামার্স ফুটবল খেলে। ফ্রান্সের দলীয় সমঝোতা বোঝাপড়া যেমন অটুট ও সত্য, তেমনি মরক্কো সাহসী দল। পজিটিভ ফুটবল খেলে তারা। মরক্কো আক্রমণাত্বকও। ফের বলছি কেউ কাউকে ছাড়বে না। লড়াইটা হবে সমানতালে ও ছন্দে। আর ছন্দপতন হলেই ম্যাচ হাতছাড়া হবে। ফ্রান্স চাইবে গতবারের ফলাফল বজায় রাখতে। আর মরক্কো চাইবে প্রতিশোধ নিতে।’
সবশেষে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু আবারও বললেন, ‘দুদলেরই জয়ের চান্স ফিফটি ফিফটি। ম্যাচ অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে পেনাল্টি শুটআউটেও যেতে পারে। আরতো কয়েকঘণ্টা বাকি। সব ফয়সালা হবে। এই বিশ্বকাপের সেরা খেলা, দম আটকানো খেলা হয়ত আজ রাতেই হবে। জয় হোক ফুটবলের অনিন্দিত সৌন্দর্যের।’







