চলছে গ্রীষ্মকালীন দলবদল, ইউরোপের বাজার অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন এবার। খেলোয়াড় কেনাবেচার বড় একটি অংশ ঘটেছে বিশ্বকাপের মাঝে। খেলোয়াড়দের জন্য মহাযজ্ঞে মহা-সুযোগ থাকে নিজেদের মেলে ধরার। সেখান থেকে বড় ক্লাবগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনেকে খুঁজে পেয়েছেন নতুন ঠিকানা। দেখে নেয়া যাক নর্থ আমেরিকা বিশ্বকাপ গড়ানোকালীন কেমন ছিল গ্রীষ্মের দলবদল।
গ্রীষ্মকালীন দলবদল হয়ে থাকে জুনের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত। যে কারণে বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে ঘটেছে খেলোয়াড় কেনাবেচার বড় একটি অংশ। ২০২২ সাল ছিল ভিন্ন, কাতার বিশ্বকাপ গড়িয়েছিল নভেম্বরে। চলতি বিশ্বকাপে বেশকিছু খেলোয়াড় নজর কেড়েছেন। যাদের অনেকে আসর চলমান থাকা অবস্থায়ই নতুন ঠিকানা পেয়েছেন।
ফুটবলে খেলোয়াড়ের ক্লাব বদল প্রক্রিয়া এমনিতে বেশ জটিল। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের সময়ে প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কারণ খেলোয়াড়রা সেসময় দেশের হয়ে খেলতে গিয়ে জয়ের জন্য মরিয়া থাকেন। সেসময় চুক্তির শর্তাবলি আলোচনা ও সম্পন্ন করা হয়ে ওঠে কঠিন।
চলতি গ্রীষ্মে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের সময় আসরে অংশগ্রহণকারী বেশকিছু খেলোয়াড় দলবদল সেরেছেন। যার মধ্যে ফ্রান্স ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে, স্পেনের দুই ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া এবং আলেজান্দ্রো গ্রিমালদো। পর্তুগাল মিডফিল্ডার বের্নার্দো সিলভা এবং ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন আছেন। মরক্কো মিডফিল্ডার ইসমায়েল সাইবারি, পর্তুগাল ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস এবং সুইজারল্যান্ড ফরোয়ার্ড জোহান মানজাম্বি দল পাল্টেছেন।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন যখন দ্বিতীয় বিশ্বকাপের জন্য লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ফ্রি এজেন্ট হয়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন সিলভা। মরক্কো আসরে থাকাকালীন সাইবারি পিএসভি থেকে ৫৫ মিলিয়ন ইউরোতে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়েছেন। রামোস পিএসজি থেকে ৭৪ মিলিয়ন ইউরোয় এসি মিলানে গেছেন। নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড চুক্তিতে ম্যানসিটিতে গেছেন অ্যান্ডারসন।
৫৫ মিলিয়ন ইউরোয় চেলসি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে এসেছেন কুকুরেয়া। বেয়ার লেভারকুসেন থেকে ২০ মিলিয়ন ইউরোয় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে গেছেন আলেজান্দ্রো গ্রিমালদো। লিভারপুল থেকে ফ্রি এজেন্ট হয়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন ইব্রাহিমা কোনাতে।
এমনকি তীব্র নকআউট চাপের সময়েও দলবদল থামেনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে, সুইস ফরোয়ার্ড মানজাম্বিকে দলে টানার জন্য প্রায় উঠে পড়ে লেগেছিল নিউক্যাসল। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই ফ্রেইবুর্গ থেকে ৬০ মিলিয়ন ইউরোতে অ্যাস্টন ভিলা তাকে দলে টেনে নেয়।
খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সর্বোচ্চ ব্যস্ত থাকেন। সেসময় চুক্তিগুলো কীভাবে সম্পন্ন হয়? পরিস্থিতিতে চুক্তি চূড়ান্ত করার সময় কী কী অসুবিধা এবং ভিন্নতা দেখা দেয় তা নিয়ে থাকে প্রশ্ন। বেশিরভাগ দলবদলই একটি মোটামুটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করে ঘটে।
সাধারণত ক্লাব, এজেন্ট এবং মধ্যস্থতাকারীরা একটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। এখানে আগ্রহী ক্লাব খেলোয়াড়ের জন্য কত টাকা চাইতে পারে এবং সেই খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত শর্তাবলী (বেতন, বোনাস, চুক্তির মেয়াদ ইত্যাদি) কী হতে পারে, তার একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করে। যদি সব পক্ষ মোটামুটি একমত হয়, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয় এবং একটি চুক্তি সম্পন্ন করার পথে যায়। এরপর খেলোয়াড়ের ডাক্তারি পরীক্ষা হয়, তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং এটিকে আনুষ্ঠানিক করার জন্য তার নিবন্ধন ফিফার ট্রান্সফার ম্যাচিং সিস্টেমে (টিএমএস) জমা দেয়া হয়।
বেশিরভাগ কাজই খেলোয়াড়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা কিংবা উপস্থিতি ছাড়াই করা যায়। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা আনুষ্ঠানিক রূপ নেয়ার সময় না হলেও মেডিকেল পরীক্ষার সময় অবশ্যই তাদের মতামত প্রয়োজন হয়। তারা যদি কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে কাজটা কীভাবে করা হয়? মূলত প্রতিটি ক্লাবই স্থানীয় এলাকায় মেডিকেল পরীক্ষা করানোর জন্য একটি পছন্দের কেন্দ্র বা হাসপাতাল থাকে, এবং নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পরামর্শের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারও থাকেন। কিন্তু যখন কোন খেলোয়াড়কে সেই কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে যাওয়া যায় না, তখন ক্লাবই এসব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে খেলোয়াড়টির কাছে পৌঁছে যায়। যেমন বিশ্বকাপ চলাকালীন এভাবে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে সাইবারির যুক্তরাষ্ট্রে বসেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল।







