সংবাদ সম্মেলনে মুখে রাজ্যের হতাশা নিয়েই হাজির হন সিঙ্গাপুর জাতীয় নারী দলের কোচ করিম বেনশেরিফা। স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮-০ গোলের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে অবধারিতভাবেই তাকে প্রশ্ন করা হয়। সাবলীল উত্তরে লাল-সবুজের দলের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্যটা তুলে ধরেন। স্বাগতিক দলের একরাশ প্রশংসাও তার কণ্ঠে ঝরেছে।
কমলাপুরের টার্ফে বাঘিনীদের পায়ের থাবায় যেন বিপর্যস্তই হয়ে যায় সিঙ্গাপুর। একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে কোণঠাঁসা করে গোল উৎসবে মাতে বাঘিনীরা। সিঙ্গাপুরের কোচ শোচনীয় হারের জন্য কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি।
‘ব্যাপারটা এমন না যে, বাংলাদেশ মাত্র দুদিনের পরিশ্রমের ফল পাচ্ছে। অনেক সহকর্মীর কঠোর পরিশ্রমের ফল। এটাকে আমি কুর্নিশ করি। বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাই। অবশ্যই আগে যে কোচরা এসব মেয়েদের নিয়ে কাজ করেছেন, অনুশীলন করিয়েছেন, প্রস্তুত করেছেন, তাদেরকেও স্যালুট। তো যখন আপনারা ৮-০ স্কোরলাইন নিয়ে কথা বলবেন, আমি তখন বলব, এমনটা হয়ে থাকে।’
অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সংগ্রাম করে যাওয়া বাংলার ফুটবলাররা যে রাতারাতি আজকের অবস্থানে আসেনি, সেটিও মনে করিয়ে দেন বেনশেরিফা। চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ফল পেতে শুরু করা বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বেশি। সাফ জানালেন , বাংলাদেশ সফরে এবার তার দল কঠিন শিক্ষাই পেয়েছে। কঠোর পরিশ্রম ও শক্ত মানসিকতাই বাঘিনীদের ইতিবাচক ফল পেতে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।
‘আপনাদেরকে আমি বলতে চাই, চার-পাঁচ বছর আগের বাংলাদেশ দলের দিকে পেছন ফিরে তাকান। যদি ঠিকঠাক স্মরণ করতে পারি, তাহলে আপনারাও দেখবেন, তারা নিজেদের কাজটা আরম্ভ করেছিল।’
‘স্কোরলাইন মাঝে মাঝে এমন হয়, বিশেষ করে মেয়েদের ফুটবলে। তখন বাংলাদেশ, জাপানের মধ্যে এরকম পার্থক্যটা ছিল,। তারাও জাপানের বিপক্ষে ৮-০ গোলে হেরেছে। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সেই পার্থক্য রয়েছে।’
প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছিল সাবিনা খাতুনের দল। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যবধান আরও অনেক বেশি বেড়ে যাওয়া নিয়ে সিঙ্গাপুরের কোচ দেন তার নিজস্ব ব্যাখ্যা।
‘নতুনদের একটু সুযোগ দেয়া আমাদের লক্ষ্য ছিল। আজকে ৮-০ স্কোরলাইনের পর আমরা কঠিন এক শিক্ষা পেলাম। আমি মনে করি, আপনি যদি বাংলাদেশের পুরান ইতিহাস ঘাটেন, তাহলে দেখবেন, তারা অতীতে এমন কঠিন শিক্ষা পেয়েছে এবং তা থেকে শিখে ফল পেতে শুরু করেছে।’








