৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেয়ার কারিগর হওয়ার স্বীকৃতি পেলেন লিওনেল স্কালোনি। আলবিসেলেস্তেদের এক সুতোয় গেঁথে ঐক্যবদ্ধ করে ডাগআউটে রণকৌশলের খেলায় সফল স্কালোনি হয়েছেন ফিফার বর্ষসেরা কোচ।
সোমবার রাতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জমকালো আয়োজনে ফিফা দ্য বেস্ট অ্যাওয়ার্ডের ২০২১–২২ মৌসুমের বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেয়া হয়। কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত সেরাদের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
প্রয়াত ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলেকে স্মরণ করে ফিফার এবারের অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি রোনাল্ডো নাজারিও স্মরণ করেন পেলেকে।
বর্ষসেরা কোচের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়েই ছিলেন ৪৪ বর্ষী আর্জেন্টাইন কোচ। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপজয়ী কোচ হিসেবে বর্ষসেরার পুরস্কারটি পেয়েছিলেন জার্মানির জোয়াকিম লো। ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো দিদিয়ের দেশমের হাতে উঠেছিল এ সম্মাননা। এবার জিতলেন স্কালোনি।
কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার আরেকটি দীর্ঘ খরা কাটাতেও সফল কোচ ছিলেন স্কালোনি। ২০২১ সালে মেসি-ডি মারিয়ারা দীর্ঘ ২৮ বছর পর জিতে নেন কোপা আমেরিকার শিরোপা।
স্কালোনির অধীনে টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত ছিল আলবিসেলেস্তেরা। কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে না হারলে ইতালির রেকর্ড ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার মাইলফলকও স্পর্শ করতে পারত আর্জেন্টিনা। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা অপরাজিত থাকার নজির গড়েছিল আকাশী-নীলরা।
কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলার মতো বাঘা কোচদের হারিয়েই স্কালোনিই তাই সেরা কোচ।
রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছিলেন সেরার দৌড়ে থাকা কার্লো আনচেলত্তিও। গত মৌসুমে জিতেছিলেন লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। নিঃসন্দেহে কোচিং ক্যারিয়ারে ২০২২ সালটি বিশেষ স্মরণীয় তার। তবে বিশ্বকাপজয়ী স্কালোনির কাছে তার এমন অর্জন যথেষ্ট বিবেচিত হয়নি। কখনোই বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার না জেতার আক্ষেপটা আনচেলত্তির দীর্ঘই হল।
তৃতীয় হওয়া পেপ গার্দিওলা শেষবার ২০১১ সালে বার্সেলোনার কোচ থাকাকালীন বর্ষসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ম্যানচেস্টার সিটিতে থাকা স্প্যানিশ কোচের অধীনে গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল দলটি।








