‘বিনামূল্যে কিছুই মেলে না’— বিষয়টি হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে ফিফা। ইউরোপজুড়ে যখন লিগগুলো মৌসুমের মাঝপথে ঠিক তখন কাতার বিশ্বকাপ আয়োজন করায় ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। আটশতাধিক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ছাড়ায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি পেতে চলেছে ক্লাবগুলো।
খেলোয়াড় ছাড়ার পর অর্থ পেতে কিছু নিয়ম মানতে হয়েছে নির্দিষ্ট ক্লাবকে। ক্ষতিপূরণ সেসব ক্লাবই পাবে, যাদের ফুটবলাররা বিশ্বকাপের আগের দুই বছর ওই ক্লাবগুলোতে খেলেছেন। পুরো অর্থও ভাগ হবে নির্ধারিত তিনভাগে। অবশ্য খেলোয়াড় যতদিন বিশ্বকাপে টিকে থাকবেন, ততদিন ১০ হাজার ডলার করে গুনবে ফিফা। সেই হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ পেতে চলেছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি।
ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত অর্থ সহায়তার বিষয়টি যদিও এবারই প্রথম নয়, ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়েছিল ক্লাবগুলো। এবার প্রায় ২৭ মিলিয়ন ডলার পেতে চলেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোই। শীর্ষ পাঁচ আয় করা ক্লাবের মাঝে নেই স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ।
কাতার বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে চলেছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। আয়ের দিক থেকে শীর্ষ পাঁচে থাকা বাকি ক্লাবগুলো হল বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি ও টটেনহ্যাম। চেলসি আয় করতে চলেছে ২.৮৬ মিলিয়ন, ইউনাইডেট পাবে ২.৬৫ মিলিয়ন ও টটেনহ্যাম ঝুলিতে পুরবে ২.৪ মিলিয়ন ডলার।
খবর, জুলিয়ান আলভারেজ, জ্যাক গ্রিলিশ-সহ ১৬ খেলোয়াড় ছাড়ায় পাউন্ডের হিসেবে ৪.৫ মিলিয়ন পেতে চলেছে সিটিজেন ক্লাবটি। ১৭ খেলোয়াড় ছেড়ে বার্সেলোনা পাবে ৩.৩২ মিলিয়ন পাউন্ড। ১৫ খেলোয়াড় ছেড়ে ৪৮ লাখ ডলার পাবে রিয়াল মাদ্রিদ। লিগ ওয়ানের ক্লাব পিএসজি মেসি, এমবাপেদের ছেড়ে পাচ্ছে ৩৮ লাখের বেশি ডলার। ১১ খেলোয়াড় ছাড়া বায়ার্ন মিউনিখের আয় সেখানে ২৬ লাখের কিছুটা বেশি।
বিশ্বকাপে নির্দিষ্ট খেলোয়াড় ফিফার থেকে কত টাকা করে ভর্তুকি পাবে তারও একটি হিসেব আছে। কাতারে পৌঁছানোসহ টুর্নামেন্টে যত সময় খেলোয়াড়টির দল টিকে থাকবে, সেটির উপর ভিত্তি করে অর্থ আবেদন করতে পারবে খেলোয়াড়টির ক্লাব। গ্রুপপর্বে পর্যন্ত টিকে যাওয়া খেলোয়াড়দের উপর দেড় লাখ পাউন্ড, শেষ ষোলোতে পৌঁছালে পৌনে দুই লাখ পাউন্ড আবদার করতে পারবে।
সংখ্যাটি বেড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ২.২৭ হাজার পাউন্ড, সেমিফাইনালে ২.৬০ হাজার পাউন্ড এবং ফাইনাল পর্যন্ত খেলা খেলোয়াড়ের উপর ৩ লাখ পাউন্ড করে দাবি করতে পারবে ক্লাবগুলো।








