ফিফা ব্যাজধারী খ্যাতিমান ফুটবল রেফারি ও সংগঠক কাজী আনসারুল ইসলাম মিন্টু মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) । মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী সাবিনা ইসলাম ও দুই পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে যশোর শহরের ঘোপ এলাকার নওয়াপাড়া রোডে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। বাদ জোহর ঘোপ জামে মসজিদে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
রেফারির পাশাপাশি তিনি যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনায় যশোরের অনেক খেলোয়াড় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকেই কাজী আনসারুল ইসলাম মিন্টু অ্যাথলেটিক্স, হকি, ফুটবল ও ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকায় ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত রেফারি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিয়ে ৫০ জনের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে রেফারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় শ্রেণি এবং ১৯৭৯ সালে প্রথম শ্রেণির রেফারি হিসেবে উন্নীত হন।

১৯৮৪ সালে তিনি ফিফা প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হন এবং একই বছর আবাহনী-মোহামেডানের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন।
ঢাকা ফুটবল লিগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ম্যাচ সফলভাবে পরিচালনার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৮৫ সালে করাচিতে কায়েদে আজম আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ১৯৮৭ সালের তৃতীয় সাফ গেমস ফুটবলের একাধিক ম্যাচ, যার মধ্যে ফাইনালও অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া আগাখান গোল্ডকাপ, প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ ও এশিয়ান কাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ফুটবলের পাশাপাশি তিনি ১৯৭৬ সালে হকি আম্পায়ার হিসেবেও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৭ সালের জাতীয় হকি প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন।
অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি, যশোর শাখা এবং ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা তাকে সেরা রেফারি হিসেবে সম্মাননা প্রদান করে। তিনি যশোর ফুটবল রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং ঘোপ স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।







