সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ তার পৈতৃক ভিটা ফেনীর জনপদ।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, ফেনীর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার সম্পর্ক ছিল। দলীয় যেকোনো কর্মসূচিতে ফেনীতে এলেই তিনি ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুরের মজুমদার বাড়ির পৈতৃক বাড়িতে যেতেন। অভিভাবক হারানোর বেদনায় শোকে কাঁদছে সর্বস্তরের মানুষ।
সকাল থেকেই ফুলগাজীতে তার পৈতৃক বাড়িতে আসতে শুরু করেন স্বজন ও স্থানীয় মানুষজন। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম মজুমদার বলেন, এ বাড়ির সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তার মৃত্যুর খবরে সকলে ভেঙে পড়েছে। আমাদের আশা ছিল এবারও তিনি সুস্থ হয়ে আবারও এই বাড়ির আঙিনায় পা রাখবেন। কিন্তু সকালের একটি সংবাদে সবকিছু চিরদিনের জন্য ম্লান হয়ে গেছে।
ফেনীর দাগনভূঞার কৃতি সন্তান বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আওয়াল বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম শোকাবহ দিন। আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় আপসহীন দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের বাতিঘর বেগম খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
তিনি কেবল একটি দলের প্রধান ছিলেন না, তিনি ছিলেন কোটি কোটি মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার ত্যাগ, সাহসিকতা এবং অবিচল নেতৃত্ব আমাদের চিরঋণী করে রেখেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি আজ আমার একজন অভিভাবককে হারালাম। তার স্নেহ, দিকনির্দেশনা এবং আদর্শ আমার রাজনৈতিক পথচলায় সবসময় পাথেয় হয়ে থাকবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান রাব্বুল আলামিন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও কোটি কোটি নেতাকর্মীকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সয়ে নেওয়ার শক্তি দিন।
আসিফ রানা নামে এক বিএনপি কর্মী বলেন, বেগম জিয়া আরও আগেই ইহলোক ত্যাগ করতে পারতেন, কিন্তু আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা তাকে জীবিত রেখেছিলেন যাতে তিনি নিজের জীবদ্দশায় রাজনীতির উত্থান পতন, বিশ্বাসঘাতকতা ও সত্যের পরীক্ষাগুলো নিজ চোখে দেখে যেতে পারেন। এগুলো ইতিহাসের অংশ, আর ইতিহাস দেখারও যোগ্যতা সবাই পায় না। আল্লাহ তায়ালা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বেহেশত নসিব করুন এবং তার অনন্ত যাত্রা কবুল করুন।
ফেনীর সন্তান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুনিয়ার সফর শেষ করেছেন। কায়মানোবাক্যে মহান রবের দরবারে এ মহীয়সী নেত্রীর জান্নাত কামনা করছি।’
কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, পরম শ্রদ্ধেয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদে আমি গভীর শোকাহত ও মর্মাহত। তিনি আজীবন লড়েছেন এই দেশের মানুষের অধিকার আর গণতন্ত্রের জন্য। স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু বা কারাগারের অন্ধকার, কোনোকিছুই তাকে টলাতে পারেনি। তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে।
জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আলাল বলেন, তার সঙ্গে রাজনীতি করার সুযোগ এবং তার স্নেহধন্য হওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর একটি। মহান রাব্বুল আলামিন এই মহীয়সী নারীকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।
প্রসঙ্গত, বেগম খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসনের প্রার্থী হিসেবে গতকাল তার পক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন নেতাকর্মী।








