ভারতের পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক রাজনৈতিক দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস অভ্যন্তরীণ এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলের ভেতরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের একাংশের প্রকাশ্য বিদ্রোহের পর এবার দলীয় অর্থ নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে পড়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
সংবাদমাধ্যম বাংলা নিউজ ১৮ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দলীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকা অরূপ বিশ্বাস জরুরি ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত বা ফ্রিজ করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, দলে বর্তমানে একাধিক ‘প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী’ সক্রিয় রয়েছে, যারা নিজেদেরই প্রকৃত দলীয় প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় তহবিলের ওপর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার বাস্তব আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো ধরনের ডেবিট ট্রানজেকশন বা আর্থিক লেনদেন আপাতত না চালানোর জন্য ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাকাউন্টের কার্যক্রমে “স্ট্যাটাস কো” বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দলের দফতরে আগে থেকেই স্বাক্ষরিত একাধিক চেক সংরক্ষিত ছিল। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ এসব চেক ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন করতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ২০ জন সংসদ সদস্য এবং ৫৮ জন বিধায়কের কথিত গণ-বিদ্রোহের পর দলটি এখন শুধু রাজনৈতিক নয়, আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বড় ধরনের চাপে রয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট অর্থ ৬২৫ কোটি ৭৯ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৪ টাকা, ফিক্সড ডিপোজিট ২৫০ কোটি ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ টাকা, মোট অর্থ (ব্যালান্সসহ) ৮৭৬ কোটি ৫৭ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৬ টাকা এবং স্বাক্ষরিত চেকের সম্ভাব্য মূল্য ৫০ কোটি টাকা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্ব দলীয় অর্থ ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।







