ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর ঢাকার থানাগুলো পুলিশ শূন্য হয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যম বলছে, ঢাকার বাইরের থানাগুলোতেও বিক্ষুব্ধ মানুষের হামলার শিকার হয় পুলিশ। যে কারণে শুধু থানা নয়, পুলিশের সব ইউনিটই ফাঁকা হয়ে যায়।
পুলিশের অনুপস্থিতির সুযোগে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বিরাজ করছে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন রাজধানীবাসী। এরইমধ্যে সদ্য যোগ দেওয়া বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম বুধবার (৭ আগস্ট) পুলিশ সদস্যদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদানের আহ্বান জানান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুলিশ সদস্যরা কর্মস্থলে ফিরতেও শুরু করেছেন।
ছাত্র-জনতার আহ্বান, পুলিশ যেন আগামীতে আর কোনো রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার না হন। নতুন দিনের নতুন পুলিশ হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করছেন দেশবাসী। দেশের মেধাবী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও এমন আশাবাদই রাখলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত এই নির্মাতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন,“আশা করি আজকে-কালকের মধ্যে পুলিশ ভাই-বোনেরা কাজে যোগ দিবে। নতুন দিনের নতুন পুলিশ হবে তারা এই আশা আমাদের।”
এসময় সবাইকে উদ্দেশ্য করে ফারুকী লিখেন,“আমরা কি একটা কাজ করতে পারি? রাস্তায় কর্মরত পুলিশ দেখলে তাদের সাথে একটু হাসি বিনিময় করতে পারি? পারলে একটু মোলাকাত? একটা ফুল? অথবা চকলেট?”
এসময় তিনি বলেন,“কালকে আমি সাধারণ কিছু পুলিশের ইন্টারভিউ দেখছিলাম। তারা নিজেরাই ফ্যাসিস্টদের ক্ষমতালিপ্সার কাছে অসহায় ছিলো, কিছু খারাপ অফিসার কীভাবে তাদের ব্যবহার করেছে, তাদের পরিবার পরিজন কতটা অনিরাপদ এবং বিব্রত- এইসব বলতে বলতে কেঁদে দিচ্ছিলো কয়েকজন পুলিশ সদস্য! তারা শুধু একটা দাবিই জানাচ্ছিলো- তারা আর কোনো দলীয় পুলিশ হতে চায় না। তারা মর্যাদার সাথে রাষ্ট্রের কর্মচারী হতে চায়! ক্যান উই গিভ দেম সাম কমফোর্ট? জাস্ট সো দে ফিল দে আর ওয়ান অফ আস?”
এদিন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যে সকল পুলিশ সদস্য কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন, তাদেরকে আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং আপামর জনসাধারণ যাতে পুলিশ সদস্যরা নিরাপদে কর্মস্থলে আসতে পারেন সেজন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।








