‘২১ আগস্টের উত্তর হওয়ার কথা ছিলো সুশাসন, ফ্যাসিজম না’- কথাটি বললেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নানা বিষয়ে নিজের মতামত ও নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়ার কথা ব্যক্ত করে যাচ্ছেন ফারুকী।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হতাহতদের জন্য ফাউন্ডেশন গঠন করার উদ্যোগ নেয়ায় বুধবার এক ফেসবুক পোস্টে ফারুকী অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান। সেখানে তিনি লিখেন, “জুলাই বিপ্লবে হতাহতদের চিকিৎসার জন্য ফাউন্ডেশন গঠন একটা গ্রেট ইনিশিয়েটিভ। এটা আরও সিগনিফিক্যান্ট কারণ এর প্রধান প্রফেসর ইউনুস নিজে। উই নেভার ফরগেট আওয়ার হিরোজ।”
পরে তিনি স্বৈরাচারী সরকারের পতন নিয়ে নানা কথা বলেন। ফারুকী বলেন,“মনে রাখতে হবে, এটা সাধারণ একটা সরকার পরিবর্তনের লড়াই ছিলো না। এটা ছিলো নাজিবাহিনীর মতো ভয়াবহ অমানবিক একটা ফ্যাসিস্ট রেজিমের বিরুদ্ধে লড়াই। ব্যর্থ হলে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বিকল্প রাখতো না এই নৃশংস এবং খুনী রেজিম।”
ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তি বা দল স্বৈরাচারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে ইতিহাসের খোঁজ দিয়ে দেন পরামর্শও। ফারুকী লিখেন,“আরেকটা কথা বলে রাখতে চাই, সরকার ভালো হয়, খারাপ হয়। সেটা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক আলোচনাও হতে পারে। কিন্তু সরকার ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠা জাতির জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য। এখন আইন বিশেষজ্ঞদের খতিয়ে দেখা দরকার দেশের কী কী করণীয় আছে -শাস্তি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে-যাতে আর কেউ এরকম ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে। হিটলারের পতনের পর জার্মানরা কী কী করেছিলো এগুলো গবেষণা করে দেখা যেতে পারে।”
ফারুকীর এ লেখার নিচে একজন মন্তব্য করে লিখেন,“২১ আগস্ট এর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেটাও আলোচনায় আসা উচিত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পিছনে ওই ঘটনার অবদানও কম না।”
এ বিষয়ে পাল্টা মন্তব্যে ফারুকী লিখেন,“সেটাতো ইতিমধ্যেই আমরা সবাই মানছি। আমি কলামও লিখছিলাম ঐ জঘন্য ঘটনার প্রতিবাদে। সেই জন্যইতো ২০০৮ সালে আমরা চাইলাম আওয়ামী লীগ সরকারে আসুক। কিন্তু ২১ আগস্টের উত্তর হওয়ার কথা ছিলো সুশাসন, ফ্যাসিজম না। আরেকটা কথা- ২১ আগস্টের বিচারিক ধাপ শেষ পর্যায়ে। এছাড়া জাতি এই কারণে বিএনপিকে ২০০৮ সালে লাল কার্ড দেখাইছে। এখন এই ২১ আগস্ট দেখাইয়া ঘরে ঘরে কত হাজার ২১ আগস্টের জন্ম দেয়া হইলো এই ১৫ বছরে। এইভাবে জাতি আগাইতে পারে না। তাইলে তো বাকশালের অপকর্ম দেখাইয়া অন্য দলগুলা বাকী জীবন পার করে দিতে পারার কথা ছিলো।”
ভয়াল ‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা’র ঘটনা ঘটেছিল ২০০৪ সালে। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলাটি চালানো হয়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তবে হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী।







