এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল (৩৮) হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার জেরে জামায়াতে ইসলামীর অস্থায়ী কার্যালয়, কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং এক জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বুধবার (১০ জুন) স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল হত্যার প্রতিবাদে দুপুরে বিএনপির উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল চলাকালে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি বারুইপাড়া বাজারে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করে। এতে কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও সাইনবোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে হামলার সময় সেখানে কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে বুধবার রাতে বারুইপাড়া ইউনিয়নের উজলকুর বাজারে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে জামায়াত নেতা মাওলানা মুজিবুর রহমানের বসতবাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন বলেন, বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ডের পর যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জামায়াতের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফকিরহাট উপজেলার নিয়তির মোড় এলাকায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একদল হেলমেটধারী দুর্বৃত্ত কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ মোড়লের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বাদল মোড়ল। গুরুতর আহত আবদুল্লাহ মোড়লকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সকাল থেকেই নিহতের সমর্থক ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় বারুইপাড়া বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে ভাঙচুরের ঘটনাগুলো ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, কৃষক দল নেতা হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।







