শারীরিক অসুস্থতা পিছু ছাড়ছে না লালন সংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনকে। বছরের শুরুতে একবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এই শিল্পী। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিয়ে বাসায় ফেরেন। এরপর আবার ভর্তি হলেও চিকিৎসাসেবা নিয়ে ঘরে ফেরেন।
তিন দিন আগে আবারও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন এই শিল্পী। শুরুতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর রবিবার (৬ জুলাই) থেকে তাকে সাধারণ কেবিনে দেওয়া হয়েছে।
এই সময়ে গুজব রটেছে ফরিদা পারভীন আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন! যেগুলো শিল্পীর শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব একেবারেই অস্বীকার করেছেন শিল্পীর ছেলে ইমাম জাফর।
ইমাম জাফর বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আমাদের মায়ের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম। প্রয়োজন হলে তার নিজস্ব সঞ্চয় দিয়েই চিকিৎসা সম্ভব। তাই কেউ যেন ভেবে না বসেন, মা আর্থিক সংকটে আছেন। একজন শিল্পী, যিনি সারাজীবন আমাদের হৃদয়ে গেয়েছেন আত্মার গান, মানবতার গান। তিনি চেয়েছেন শুধু একটি জিনিস-প্রার্থনা।
ইমাম জানান, ‘আম্মার কিডনির সমস্যাটা ২০১৯ সাল থেকেই চলছে। বলেন, এখন ডায়ালাইসিস শুরুর পর শরীর আরো দুর্বল হয়ে গেছে। আমাদের সবাই—আমি, আমার ভাইবোন, তাদের জীবনসঙ্গীরা-নিজ হাতে আম্মার সেবা করছি। এই সময়ে সরকার থেকেও জানতে চাওয়া হয়েছে, কোনো সহায়তা দরকার কি না। কিন্তু মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি তা নিতে চান না।
এই শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে ইমাম জাফর সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন-গুজব নয়, দোয়া ছড়ান। তিনি আরো বলেন, আমার মা যেন আবার গানে ফিরতে পারেন, আবার মঞ্চে দাঁড়িয়ে গেয়ে ওঠেন-এই প্রার্থনা করি। আপনারাও তার জন্য দোয়া করবেন।
ফরিদা পারভীন নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গান দিয়ে শুরু করে সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে তালিম নেওয়া লালনের গান দিয়ে যিনি পৌঁছে গেছেন বাঙালীর হৃদয়ে। শিশুদের লালন সংগীত শেখানোর জন্য তিনি অচিন পাখি স্কুল নামে একটি গানের স্কুল গড়ে তুলেছেন।








