চ্যানেল আইয়ের প্রধান কার্যালয়ে দেশের গুণী সংগীতশিল্পী জীনাত রেহানাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে তার মরদেহ চ্যানেল আইয়ের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুপুর ৩টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা সম্পন্ন হয় বহু শ্রোতাপ্রিয় গানের এই শিল্পীর। বর্ষার বৃষ্টি সত্ত্বেও চ্যানেল আই চত্বরে তার জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষজন।
জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানানো হয়।
জীনাত রেহানাকে নিয়ে কথা বলেন চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান ও পরিচালক শাইখ সিরাজ। তিনি এই শিল্পীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। সেই সাথে জীনাত রেহানার সৃষ্টিশীল জীবন নিয়েও ইতিবাচক কথা বলেন।
জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর চ্যানেল আই থেকে জীনাত রেহানার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বনানী কবরস্থানের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই এই শিল্পী।
চ্যানেল আইয়ে জানাজার আগে যোহরের নামাজের পর গুলশান আজাদ মসজিদে হয় শিল্পীর প্রথম জানাজা।
‘সাগরের তীর থেকে’ গানের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী জীনাত বুধবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু সংবাদ চাউর হওয়ার পরেই চ্যানেল আইয়ে শিল্পীর সম্মানে রাখা হয় ছবি সম্বলিত শোক বই।
১৯৬৪ সালে জীনাত রেহানা বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন। সেখানে ১৯৬৮ সালে জীনাত রেহানার ‘সাগরের তীর থেকে’ গানটি রেকর্ড করা হয়। এটি প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতাদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়তা লাভ করে।
১৯৬৫ সালে টেলিভিশনের শিল্পী হিসেবে গান শুরু করেন জীনাত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে তাকে গানে কম দেখা যেত। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে, ‘একটি ফুল আর একটি পাখি বলতো কি নামে তোমায় ডাকি’, ‘আমি কাকন দিয়ে ডেকেছিলেম মুখে লজ্জা ছিল বলে’, ‘কপালে তো টিকলি পরবো না’, ‘আমি যার কথা ভাবছি মনে আনমনে’, ‘আমায় যদি ডাকো কাছে’, ‘কণ্ঠবীণা’, ‘মনে রেখো, স্মৃতি থেকে’।
গুণী এই শিল্পী আধুনিক ও আধ্যাত্মিক গানের পাশাপাশি করছেন ছোটদের গানও। জীনাত রেহানার স্বামী প্রয়াত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল সৈয়দ।








