৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলছে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির ঘটনা। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে।
যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তাল! নেটিজেনদের দাবী, দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব ‘গণপিটুনি’-তে সম্পৃক্তদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবেন। সেই সাথে এসব ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে সে নিয়েও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর নজরদারি চান।
একই দিনে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যার খবরে সাধারণ মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন শোবিজের মানুষেরাও। বিশেষ করে দেশের মেধাবী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী অতি দ্রুত মববাজি বন্ধ করার আহ্বান জানান। এরআগে এ বিষয়ে তিনি সুর চড়িয়েছেন।
বৃহস্পতিবার এক পোস্টে ফারুকী লিখেছেন, ‘তুমি যদি স্বাধীনতার মর্ম না বোঝো, তাহলে তুমি স্বাধীনতার স্বাদ হারাবে। আব্বার কাছে শুনতাম, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেকের মধ্যেই জোশ চলে আসছিল যে সে-ই সব। সে নিজেই অভিযোগকারী, নিজেই বিচারক, নিজেই এক্সিকিউশনার। হাতে অস্ত্র আছে, অথবা আছে মবের শক্তি। সুতরাং মারো, মেরে ফেল। ফল কী হয়েছিল আমরা জানি।’
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের এমন কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে ফারুকী লিখেন, ‘আচ্ছা, স্বাধীনতার পর না হয় একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল, এমন কি যখন আওয়ামী লীগের কঠিন আঁটুনির ভেতর আটকা ছিল দেশ, তখনও কি আমরা বাড্ডার এক মাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারিনাই? রংপুরে নামাজের পর এক মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে মেরে পুড়িয়ে দেই নাই?’
মববাজির ঘটনা বেদনা ও লজ্জার দাবী করে এই নির্মাতা আরো বলেন, ‘আমি আশা করছিলাম, এই নতুন স্বাধীনতা প্রাপ্তির সাথে সাথে নতুন দায়িত্বের ব্যাপারটা আমরা উপলব্ধি করবো। আমাদের দিলে রহম জিনিসটা আসবে। একশ’ জন মববাজি করতে আসলে দুইজন হলেও রুখে দাঁড়াবে! ঢাকা আর জাহাঙ্গীরনগরে কি এ রকম চারজন ছাত্র ছিল না রুখে দাঁড়ানোর? এটা লজ্জার, বেদনার।’
মববাজি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ফারুকী এসময় লিখেন,‘সবাই দায়িত্ব নিই চলেন। মববাজি বন্ধ করেন। ফ্যাসিবাদিদের ফাও আলোচনার বিষয় উপহার দেয়া থেকে বিরত থাকেন। প্লিজ। আলোচনাটা থাকতে দেন রিফর্মে, ফ্যাসিবাদের বিচারে।’
প্রসঙ্গত, ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলের সামনে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে হলের শিক্ষার্থীরা। একই দিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শামীম মোল্লাকে মারধর করে। কয়েক দফায় মারধরের পর একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এরপর বুধবার রাত ৯টার দিকে চিকিৎসার জন্য সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।








