বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসন ছিল গুম ও বিচার বর্হিভূত হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে পরিপূর্ণ। পতনের পূর্বে আওয়ামী আমলে বাংলাদেশে গুমের আতঙ্ক বিরাজমান ছিল। দুঃশাসন থেকে উৎপন্ন হয় গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যার মতো মানবতা বিরোধী নৃশংসতা।
‘গুমের শিকার ব্যক্তিবর্গের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি অদৃশ্য হয়ে যাওয়া মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাদের পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক সমবেদনা। মূলত হিংস্র্র স্বৈরাচারী সরকারের হাতেই গুম হয় সবচেয়ে বেশি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দিয়ে বিরোধী দলের প্রতিবাদী নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে গিয়ে অদৃশ্য করা ছিলো আওয়ামী শাসনের অনুসঙ্গ। এরা বিরোধী দল ও মতের মানুষদের অল্পদিন অথবা দীর্ঘদিন কিংবা চিরদিনের জন্যে নিখোঁজ করে দেয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রায় দেড় দশক ধরে ৭০০ এর অধিক মানুষকে বলপূর্বক গুম করা হয়েছে। এম ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হিরু ও চৌধুরী আলম এর মতো জনপ্রতিনিধিসহ বিএনপি’র অসংখ্য ছাত্র-যুবকদের এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে নিখোঁজ করা রয়েছে। লক্ষ্য ছিল বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিরোধী কণ্ঠকে নির্মূল করা।
তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারদের যথাযথ পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং গুমের শিকার নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আন্তরিকতার সাথে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, একইসাথে গুমের জন্য দায়ী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জড়িত প্রত্যেক কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য উদ্যোগ, স্মরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিশ্বজুড়ে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ আগস্ট গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়ে আসছে।
“২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন ফর প্রোটেকশন অব অল পার্সনস এগেইন্সট এনফোর্সড ডিজ এ্যাপিয়ারেন্স’ সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয় তাতে ৩০ আগস্টকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষনা করা হয়।








