সশস্ত্র বাহিনীর মেজর পরিচয় দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও অসংখ্য প্রতারণা করত ‘ভুয়া মেজর’ আব্দুর রাজ্জাক ওরফে মেজর সাগর চৌধুরী। সাম্প্রতিক সময়ে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কয়েকজনের ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার আশুলিয়া থানায় প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
শনিবার ১৩ মে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি থানাধীন দক্ষিণ বেতডোবা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ‘ভুয়া মেজর’ মো. আব্দুর রাজ্জাক ওরফে মেজর সাগর চৌধুরী ওরফে জাহিদ চৌধুরী ওরফে সুমির (৩১) কে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০ ।
সেসময় তার কাছ থেকে একটি সেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কম্ব্যট ইউনিফর্ম, একটি সেনাবাহিনীর কম্ব্যট কাঁধব্যাগ, একটি সেনাবাহিনীর সাগর নামীয় নেমপ্লেট, একটি সেনাবাহিনীর ফেস মাস্ক, একটি সেনাবাহিনীর ফিল্ড ক্যাপ, একটি সেনাবাহিনীর ব্যাজের প্রতিলিপিসহ মানিব্যাগ, একটি পুরাতন সেনাবাহিনীর গেঞ্জি, একটি মোটরসাইকেলের লাইসেন্স, পাঁচটি সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ভূয়া নিয়োগপত্র ও মেডিকেল সনদপত্র, পাঁচটি ভুয়া এনআইডি কার্ড, একটি পোস্ট অফিস সেভিংস বহি, একটি সোনালী ব্যাংকে টাকা পাঠানোর রিসিপ্ট কপি, চারটি মোবাইল ফোন ও ১১টি বিভিন্ন কোম্পানির সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১০ অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুক্তভোগী মোছা. সোনিয়ার সাথে প্রতারক সাগর এর পরিচয় হয়। সাগর সোনিয়ার সাথে কথাবার্তা বলার সময় নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয় দেয় এবং বর্তমানে সে মাঝিরা সেনানিবাস, বগুড়ায় কর্মরত আছে বলে জানায়। এছাড়াও সে সোনিয়ার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইমো) কথা বলার সময় বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত অবস্থায় কথা বলত। যার ফলে ভিকটিম সোনিয়া প্রতারক সাগরকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা (মেজর) বলে বিশ্বাস করে।
আলাপচারিতার এক পর্যায় সাগর সোনিয়াকে মাঝিরা সেনানিবাস, বগুড়া সিএমএইচ এ নার্স এর চাকুরি দেওয়ার বিষয়ে প্রলোভন দেখায়। ভিকটিম সোনিয়া সাগরকে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং ভিকটিমের একটি চাকুরির প্রয়োজন থাকার কারণে সাগরের প্রস্তাবে রাজি হয়। পরে সাগর তার আরও ৪/৫ জনকে চাকরি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানায়। সাগরের কথামত সোনিয়া তার পরিচিত শাপলা খাতুন, মুরশালিনা খাতুন, মিতা খাতুন ও জোসনা বেগমদেরকে চাকরির জন্য রাজি করিয়ে হয়ে সকলেই সাগরের সাথে মেসেঞ্জার ও ইমুতে ভিডিও কলে কথা বলে। পরে সাগর প্রত্যেকের নার্সে চাকুরীর জন্য জনপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। সাগরের কথামত সকলেই ১৫ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির ভেতর সাগরের দেয়া নগদ ও বিকাশের বিভিন্ন নম্বরে সর্বমোট ১৭ লাখের বেশি টাকা পাঠায়। পরে ভুক্তভোগীরা তাদের চাকুরির বিষয় জানার জন্য সাগরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফেসবুক আইডিসহ সকল মোবাইল নম্বর বন্ধ পায়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামি সাগর সেনাবাহিনীর মেজরসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে চাকুরির প্রলোভন এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।








