আন্তর্জাতিক

ফেসবুকের গোপনীয়তা লঙ্ঘন: মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা

ফেসবুকের গোপনীয়তা লঙ্ঘন: মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন একটি আদালত। গত বুধবার অঙ্গরাজ্যটির জেলা আদালতের বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ এ রায় দেন। তবে মেটা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।

গত মাসে একটি জুরি বোর্ডের রায়ে বলা হয়, ফেসবুকের তথ্যের গোপনীয়তা ও ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে মেটা নিউ মেক্সিকোর ভোক্তা সুরক্ষা আইন ৪ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার লঙ্ঘন করেছে। বিচারক ম্যাথিউ বলেন, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা নিজেদের তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি সত্য ছিল না।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজ এ রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে দেওয়া অন্যতম বৃহৎ রায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছানো উচিত।

মামলায় নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যে কারা প্রবেশাধিকার পেতে পারে এবং প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট কীভাবে মোকাবিলা করা হয়, সে বিষয়ে মেটা মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। জুরি বোর্ড মেটা ও এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের দেওয়া গোপনীয়তা ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত ২৯টি বক্তব্যের মধ্যে ২৬টিকে বিভ্রান্তিকর বলে চিহ্নিত করে।

আদালতে মেটার আইনজীবী ম্যাট নিকলসন যুক্তি দেন, ৪০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হলে তা হবে ‘বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো’ শাস্তি। তার দাবি, নিউ মেক্সিকোর কোনো বাসিন্দা ওই বক্তব্যগুলো শুনেছেন বা দেখেছেন কিংবা সেগুলোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—জুরি বোর্ড এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। অন্যদিকে, অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী র‍্যান্ডি ম্যাকগিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল টোরেজ জানিয়েছেন, মামলায় আদায় করা অর্থ অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা খাতের জন্য গঠিত তহবিলে জমা দেওয়া হবে। এ মামলায় নির্ধারিত জরিমানার পরিমাণ ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) আরোপ করা ফেসবুকের পাঁচ বিলিয়ন ডলারের জরিমানার চেয়েও অনেক বেশি।

মেটার প্রধান আইন কর্মকর্তা সি জে মাহোনি এক বিবৃতিতে বলেন, আপিলের মাধ্যমে কোম্পানিটি এ রায় বাতিল করতে পারবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী। তার অভিযোগ, এ রায় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মামলাটি পরিচালনার পদ্ধতি নিউ মেক্সিকোতে ব্যবসা করাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। অনলাইনে মানুষ কী বলতে পারবে, তা নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম কার্যকর করার জন্য এ মামলা মূলত মতপ্রকাশের ওপর কর আরোপের শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০২১ সালে দায়ের করা মামলাটির পেছনে অন্যতম প্রেক্ষাপট ছিল কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার তথ্য সংগ্রহের ঘটনা। ব্রিটিশ রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকের সর্বোচ্চ আট কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য তাদের সম্মতি ছাড়াই সংগ্রহ করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এসব তথ্য ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের মধ্যে ছিলেন ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারশিবির।

নিউ মেক্সিকোতে ছয় মাসের মধ্যে এটি মেটার দ্বিতীয় বড় আইনি পরাজয়। এর আগে গত মার্চে আরেকটি মামলায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে জুরি বোর্ড মেটাকে দায়ী করে এবং ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অঙ্গরাজ্যের একটি তহবিলে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়।

বিষয়:গোপনীয়তা নিউ মেক্সিকো ফেসবুক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ মেটা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…