ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০১৭ সালের ইসরায়েল সফরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ছিল এমন দাবি করে সদ্য প্রকাশিত ইমেইলগুলোকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়। তারা প্রয়াত মার্কিন অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের ওই ইমেইলগুলোকে “একজন দণ্ডিত অপরাধীর কুরুচিকর কল্পনাপ্রসূত মন্তব্য” বলে অভিহিত করেছে।
রোববার(১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যম দা হিন্দু এই তথ্য জানায়।
প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “প্রধানমন্ত্রীর ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ইসরায়েল সফরের সরকারি তথ্য ছাড়া বাকি সব ইঙ্গিতই একজন দণ্ডিত অপরাধীর অর্থহীন ও নোংরা চিন্তাভাবনা, যা চূড়ান্ত অবজ্ঞার সঙ্গে খারিজ করা উচিত।”
মার্কিন সরকারের তরফে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক ডজনেরও বেশি ইমেইল ও ফোনবার্তায় জেফ্রি এপস্টিন ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি ভারত-মার্কিন সম্পর্ক জোরদার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর রিপাবলিকান কৌশলবিদ ও ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ তিনি আয়োজন করবেন।
এই সব বিষয়ে এপস্টিনের সঙ্গে শিল্পপতি অনিল আম্বানির ইমেইল যোগাযোগও ছিল বলে নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এপস্টিনের এই দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে। তাদের মতে, এই ঘটনা “জাতীয় লজ্জা”। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ইমেইলগুলোকে “স্তম্ভিত করার মতো ও লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেন এবং সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান।
কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা ২৪ মে, ২০১৯ তারিখের দুটি ইমেলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন যেদিন নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ওই ইমেইলগুলোতে এপস্টিন স্টিভ ব্যানন ও অনিল আম্বানিকে লেখেন যে, “মিস্টার মোদি স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী হতে পারেন।”
এপস্টিনের দাবি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ ও ২৬ জুন মোদি-ট্রাম্প বৈঠকের পরেই ৪ থেকে ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফর হয় এবং সেই সফর “কাজে লেগেছিল”, কারণ মোদি নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরামর্শ মেনেছিলেন।
৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে পাঠানো এক ইমেইলে এপস্টিন লেখেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুবিধার জন্য ইসরায়েলে গিয়ে নাচলেন-গাইলেন। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁদের দেখা হয়েছিল, এটা কাজ করেছে!”
পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়র মুখপাত্র বলেন, “আমরা এপস্টিন ফাইলস থেকে প্রকাশিত একটি ইমেলের খবর দেখেছি, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ওই ইমেইলের বাকি সব ইঙ্গিতই ভিত্তিহীন।”
এই ইমেইল প্রকাশের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইসরায়েলে দ্বিতীয় সফরে যেতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ জেফ্রি এপস্টিনের পেডোফিলিয়া চক্র ও প্রভাব বিস্তার সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে প্রায় ৩০ লক্ষ নথি প্রকাশ করেছে। তার মধ্যেই ২০১৪ সালের নভেম্বরে তৎকালীন কূটনীতিক হরদীপ সিং পুরির একটি ইমেইল রয়েছে, যেখানে মোদির জয়ের পর ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
হরদীপ পুরি সেই ইমেইল পাঠানোর কথা অস্বীকার করেননি, তবে তিনি বা পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়র মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ইমেইল বিকৃত করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “এই ইমেইলে কোথাও ‘মোদির উপদেশ নেওয়া’র কথা নেই। কংগ্রেস নিজেদের মতো করে শব্দ যোগ করে প্রতারণা করেছে।”
অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, “মার্কিন সরকারের প্রকাশিত এপস্টিন ফাইলসে প্রধানমন্ত্রী মোদির নাম একাধিকবার এসেছে। সরকারকে বিবৃতি দিতে হয়েছে। কিন্তু এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।”
এপস্টিনের বিতর্কিত ইমেইল প্রকাশ ঘিরে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সরকার একে ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয় দাবি বলে খারিজ করলেও, বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে আরও স্পষ্টতা চাইছে।







