যমুনা অববাহিকার চরাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অনিশ্চয়তা ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার একটি। এসব অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে জাতীয় নীতি ও কৌশলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স (এনসিএ)-এর জাতীয় সংলাপে বিশেষজ্ঞরা এ মত প্রকাশ করেন।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) বাংলামটরের উন্নয়ন সমন্বয় কার্যালয়ের খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ কনফারেন্স হলে “রেজিলিয়েন্স টু ক্লাইমেট চেইঞ্জ ইন চর এরিয়াস অ্যালং দ্য যমুনা রিভার বেসিন” শীর্ষক এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির এম. আশরাফ আলম (এনডিসি)।
বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ও উন্নয়ন সমন্বয়ের নির্বাহী সভাপতি ড. এস. এম. জুলফিকার আলীর সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের ইমেরিটাস ফেলো এবং বিআইজিডি-এর ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো খোন্দকার সাখাওয়াত আলী।
এনসিএ-এর সদস্য সচিব জাহিদ রহমান বলেন, চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। তিনি জানান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সুইস রেড ক্রসের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘জয়েন্ট অ্যাকশন ফর মিটিগেটিং ক্লাইমেট আনসারটেইনিটিজ অ্যান্ড ন্যাচারাল অ্যাডভারসিটিজ (যমুনা)’ প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. জসিম উদ্দীন কবির বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কারণে বিশেষ ঝুঁকিতে আছেন। তাঁদের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা জাতীয় নীতি পর্যায়ে তুলে ধরতে সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী বলেন, চর অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেটে ধারাবাহিক ও কার্যকর বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
উন্মুক্ত আলোচনায় সুইস রেড ক্রসের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সঞ্জীব বিশ্বাস সঞ্জয় বলেন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং চরবাসীর জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব গওহর নাঈম বলেন, নদীভাঙন পূর্বাভাসে দেশের কারিগরি সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের অবকাঠামো পরিকল্পনা করতে হবে।
চরাঞ্চলে টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতি প্রণয়নে সব অংশীজনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধান অতিথি ড. কবির এম. আশরাফ আলম।
আলোচনায় ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর চন্দন জেড. গোমেজ, এসডিএস-এর নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম, প্র্যাকটিকাল অ্যাকশনের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফারহানা পারভীন, রিভারাইন পিপল ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট এফ এম আনোয়ার হোসেন, মানবমুক্তি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হাবিবুল্লাহ বাহার, সিসিডিবি’র ইনট্রিম কো-অর্ডিনেটর আশরাফুজ্জামান খান, আরডিআরএস-এর হেড অব ডেভেলপমেন্ট মুজিবুল হক মুনীর, উন্নয়ন সংঘের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল আলম মোল্লা এবং ইউএনডিপি ও এসডিএস-এর সাবেক সিনিয়র অ্যাডভাইজার এস এম মঞ্জুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে সমন্বিত উদ্যোগ, টেকসই বাজেট বরাদ্দ এবং জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনাকে চর উন্নয়ন কৌশলের মূলধারায় আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।








