রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করে নগরীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে মাঠে নেমেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। আজ বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতে চলছে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান।
সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাটের অতিরিক্ত বর্ধিতাংশ অপসারণ করা হচ্ছে এই অভিযানে। টানা পাঁচ দিনব্যাপী এই বিশেষ অভিযান চলবে রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায়। অভিযান চলাকালে বহু অস্থায়ী দোকান ও ঝুপড়ি ঘর ভেঙে ফেলা হয়।
এদিন সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে একযোগে এই অভিযান শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে মগবাজার মোড় থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ।
তিনি জানান, জনদুর্ভোগ কমানো এবং পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপের বর্ধিতাংশ উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, মগবাজার থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে থাকা দোকানের অংশ, সড়কে রাখা মোটরসাইকেল এবং অবৈধভাবে বসানো দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর ফার্মগেট ও ইন্দিরা রোড এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল ফয়সাল।
ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জীবিকা বিবেচনায় রেখে তাদের সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে কেউ আবারও ফুটপাত দখল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের অভিযানে যারা ফুটপাতে দোকান চালাচ্ছিল তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে, আপনারা এখান থেকে চলে যান। ভবিষ্যতে এই অভিযান চলমান থাকবে। দ্বিতীয়বার কেউ যদি এখানে দোকান বসায়, আমরা জরিমানা করবো ও মালামাল জব্দ করবো।’
তিনি উল্লেখ করেন, যারা অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহার করেছেন, তাদের এক্সটেনশন উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যদি আবার এক্সটেনশন করে, সেক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফার্মগেট মোড়ে এবং আশেপাশের ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের উচ্ছেদ করা হয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেভাগেই অনেক দোকানি সরে পড়েন। এসময় কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর তেজগাঁও কলেজ সংলগ্ন কিছু অবৈধ দোকানিরা আবার দোকান চালু করেন।
ডিএমপি কর্মকর্তারা বলছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। তবে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, জীবিকার তাগিদেই তারা ফুটপাতে বসেছিলেন। তারা সরকারের কাছে বিকল্প পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
ডিএমপির সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আরিফা জাহান প্রীতি জানান, রাজধানীর আটটি বিভাগজুড়ে এ অভিযান পরিচালিত হবে। বিশেষ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে ট্রাফিক কর্মকর্তারা যৌথভাবে অভিযান চালাবেন।
তিনি বলেন, রাজধানীর আটটি বিভাগে বিশেষ এ অভিযান চলবে। প্রথম দিন বুধবার বিশেষ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে ট্রাফিক কর্মকর্তারা যৌথভাবে অন্তত ৫০টি স্থানে অভিযান পরিচালনা করবেন, যাতে ঢাকার ফুটপাতগুলো পথচারীবান্ধব হয়। নিয়ম ভঙ্গকারীদের জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং ফুটপাত ও সড়কে রাখা পণ্য জব্দ করা হবে।
২৩ মার্চ জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনো ফুটপাত ও সড়ক দখল করে আছে। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, শোরুম, ওয়ার্কশপ ও ভাসমান দোকান—যারা ফুটপাত ও সড়কে পণ্য, গ্রিল, চুলা, চেয়ার ও অস্থায়ী কাঠামো বসিয়ে রাখছে।
এ ধরনের দখলের কারণে পথচারীরা ফুটপাত ছেড়ে সড়কে চলতে বাধ্য হন, এতে জনভোগান্তি বাড়ে এবং যানজট সৃষ্টি হয়।
নগরবাসীর চলাচল সহজ করতে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ফুটপাত ও সড়কে রাখা যেকোনো সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








