ফুটবলে মেজাজ হারানো যেমন নিত্য, প্রতিপক্ষের সাথে তর্ক-হাতাহাতিতে লিপ্ত হওয়াও অহরহ। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে এভারটন ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচে দেখা গেল বিরল কিছুই। সতীর্থকে চড় মেরে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন এভারটন মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গানা গুয়ে।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে সোমবার রাতে ম্যাচের শুরুতে দশ জনের দলে পরিণত হওয়া এভারটন ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে রেড ডেভিলদের। ২৯ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন এভারটনের ইংলিশ মিডফিল্ডার কেইরান ডিউসবারি হাল।
লাল কার্ডের ঘটনা ম্যাচের ১৩ মিনিটে। সেনেগাল মিডফিল্ডার ইদ্রিসা নিজেদের রক্ষণে থাকা ডিফেন্ডার মাইকেল কিনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে নিয়ন্ত্রণ হারান। সতীর্থ কিনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত তর্কের পর রেফারির খুব কাছাকাছি থাকা অবস্থায় চড় কষেন।
ইউনাইটেডের পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ব্রুনো ফের্নান্দেজের একটি শট ঘিরে সূত্রপাত। ব্রুনোর শটে এভারটন রক্ষণের কেউ এগিয়ে না গেলে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতিতে এমন ঘটে। রেফারি দ্রুত লাল কার্ড দেখান ইদ্রিসাকে।
প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘ম্যাচে দায়িত্বরত রেফারি গুয়েকে লাল কার্ড দেখান। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির মাধ্যমে আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়। সেখানে কিনকে চড় কষানোর দৃশ্যটি শনাক্ত হয়েছে।’
দায়িত্বরত রেফারি ডেভিড মোয়েস বলেছেন, ‘প্রথমে চিন্তিত হয়ে পড়ি, তাদের নিজেদের মধ্যে তেড়ে আসা বিষয়ে। তাদের এমন কাণ্ড আমাকে বিচলিত না করে সন্তুষ্টই করেছে। দেখে বোঝা যাচ্ছিল তারা একে অপরকে ও দলের অবস্থান নিয়ে ভাবছে।’
গোল করা ডিউসবারি ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘মনে করছি এটি পাগলামির মূহূর্ত। যা খানিকটা আমাদের অস্বস্তিতে ফেললেও ম্যাচ শেষে ইদ্রিসা আমাদের সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি মনে রাখিনি।’
প্রিমিয়ার লিগে এমনকিছু প্রথম নয় যদিও। ২০০৮ সালে সবশেষ স্টোক সিটির রিকার্ডো ফুলার সতীর্থ ও অধিনায়ক এন্ডি গ্রিফিনকে চড় মেরেছিলেন। প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্টহ্যাম।
২০০৫ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও অ্যাস্টন ভিলার ম্যাচেও এমন ঘটেছিল। নিউক্যাসল সতীর্থ লি বাওয়ার ও কেইরন ডেওয়ার দুজনকেই লাল কার্ডে মাঠ ছাড়া করেছিলেন রেফারি।








