অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অভাবে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল)-এর পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রোববার বিকেলে সর্বশেষ উৎপাদনের পরই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে সর্বশেষ অপরিশোধিত তেলের চালান আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর টানা ৫৪ দিন কোনো নতুন চালান আসেনি।
ইআরএল সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে কাঁচামালের সংকটে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। উৎপাদন সচল রাখতে শেষ পর্যায়ে মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার টন তেল এবং ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেডস্টক ব্যবহার করা হয়। তবে এসব তেল সরাসরি ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে ময়লা ও বর্জ্য থাকে। ইআরএলে সাধারণত প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়। সংকট শুরুর পর উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক প্রায় সাড়ে তিন হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
বিপিসি জানায়, দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। বাকি প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত তেল সরাসরি আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৭টি জাহাজে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল আসে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে দুই লাখ ৩১ হাজার টনের বেশি ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। এপ্রিলেও কয়েকটি চালান এসে পৌঁছেছে।
এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ হলেও আপাতত দেশে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে না। কারণ, যুদ্ধ শুরুর পর আগাম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার বেশি দামে হলেও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়ে পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করেছে।

