ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বাধিক রানতাড়ার রেকর্ডটি বিশ্বকাপেই। গত আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২২ রানের লক্ষ্য টাইগাররা টপকে গিয়েছিল ৫১ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরও কঠিন লক্ষ্য করতে হবে তাড়া। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে করতে হবে ৩৬৫ রান।
ধর্মশালায় মঙ্গলবার টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংলিশরা ৯ উইকেটে সংগ্রহ করেছে ৩৬৪ রান। শেষ ১০ ওভারে লাল-সবুজের দল প্রতিপক্ষের ৬ উইকেট তুলে চারশো রানের গণ্ডি পেরোতে দেয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে নতুন বল তুলে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কাটার মাস্টারের ধারাল বলে খানিকটা দিশেহারা ছিলেন দুই ইংলিশ ওপেনার। অন্যপ্রান্ত থেকে তাসকিন আহমেদও নিজের কাজটা ঠিকঠাক করছিলেন। শুরুর পেস সামলে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে টাইগারদের চাপে ফেলেন দুই ইংলিশ ওপেনার।
শুরুটা দারুণ হলেও নিজের করা তৃতীয় ও চতুর্থ ওভারে যথাক্রমে ১০ ও ১২ রান দিয়ে মোস্তাফিজ হন খরুচে। ইংল্যান্ডের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলটি বেয়ারস্টোর কাঁধে লেগে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি হয়। রিভিউ নিয়ে তা নষ্ট করে সাকিবের দল।
বাংলাদেশ ১৮তম ওভারে এসে প্রতিপক্ষের প্রথম উইকেটের পতন ঘটাতে পারে। সাকিবের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে লাইন মিস করেন শততম ওয়ানডে খেলতে নামা বেয়ারস্টো। ৫৯ বলে ৮ চারে ৫২ রান করে হন বোল্ড।
বাইশ গজে আগ্রাসী বেয়ারস্টো-মালান জুটি অনায়াসে রান নিতে থাকেন। মালান ৩৯ বলে খেলে পান ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি। শততম ওয়ানডে খেলতে নামা বেয়ারস্টো ফিফটি পাওয়ার আগেই উদ্বোধনী জুটিতে ইংলিশরা পায় শতরানের দেখা।
৩১-৩৫ এই পাঁচ ওভারে ঝড়ো গতির ব্যাটিংয়ে ৫২ রান যোগ করেন মালান ও রুট। এরমাঝেই ৯১ বল খেলে সেঞ্চুরির দেখা পান মালান। ২৩তম ওয়ানডেতে পেলেন ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখা।
তাসকিনের করা ৩৫তম ওভারের প্রথম বলে মিড অনে ঝাঁপিয়ে পড়া তাওহীদ হৃদয়ের আঙুলে লাগে বল। ব্যক্তিগত ১২৭ রানে জীবন পান মালান। ৩৬তম ওভারের শেষে শরিফুলের বলে বাউন্ডারি মেরে ইংল্যান্ডের হয়ে রেকর্ড গড়েন রুট। গ্রাহাম গুচের ৮৯৭ রান টপকে এখন তিনি বিশ্বকাপে ইংলিশদের সর্বাধিক রানের মালিক।
বিধ্বংসী মালানকে বোল্ড করে শেষপর্যন্ত ড্রেসিংরুমে স্বস্তি ফেরান শেখ মেহেদী হাসান। ভাঙে রুটের সঙ্গে তার ১৫১ রানের জুটি। ক্রিজ ছাড়ার আগে বাঁহাতি ব্যাটার ১০৭ বলে ১৬ চার ও ৫ ছক্কায় ১৪০ রানের ইনিংস খেলেন।
ঝলসে জস বাটলারকে বোল্ড করেন শরিফুল। ইংলিশ অধিনায়ক ১০ বলে এক চার ও এক ছক্কায় খেলেন ২০ রানের ইনিংস। ৪০ ওভারে ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ২৯৮, ৩ উইকেট। শেষ ১০ ওভারে অবশ্য ৬৬ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি, উল্টো হারায় ৬ উইকেট।
৪২তম ওভারের শেষ দুই বলে শরিফুল হানেন জোড়া আঘাত। প্রথমে ৬৮ বলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ৮২ রান করা রুট মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি হন। এরপর রানের খাতা না খুলেই বোল্ড হন লিয়াম লিভিংস্টোন।
হ্যারি ব্রুক ১৫ বলে ৩ চারে ২০ রান করে শেখ মেহেদীর বলে লংঅফে লিটন দাসের ক্যাচ হন। ৪৭তম ওভারে লংঅফে ১১ রান করা স্যাম কারেনের দুরন্ত ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
শেষ ওভারের প্রথম বলে তাসকিন চারের মার খেলেও পরেরটিতে ক্রিস ওকসকে ফেরান। শেষ পর্যন্ত ৩৬৪ রানে থামে থ্রি লায়ন্স দল।
বাংলাদেশের পক্ষে ৮ ওভারে ৭১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন শেখ মেহেদী। শরিফুল ১০ ওভারে ৭৫ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট পান তাসকিন ও সাকিব।







