আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। ব্যাংককের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটটি আকাশে এক ইঞ্জিনে সমস্যার ইঙ্গিত পাওয়ার পর মাঝপথ থেকেই ঢাকায় ফিরে আসে। ফ্লাইটটিতে ১৪৬ জন যাত্রী ছিলেন।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে বিজি-৩৮৮ ফ্লাইটটি। বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজটি মিয়ানমারের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর একটি ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক কম্পন শনাক্ত করেন পাইলট। নিরাপত্তার স্বার্থে তৎক্ষণিকভাবে তিনি ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
দুপুর ১টা ২১ মিনিটে উড়োজাহাজটি শাহজালালে নিরাপদে অবতরণ করে। পরে যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে আরেকটি ফ্লাইটে ব্যাংককে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর বিমানের প্রকৌশল বিভাগ ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। বিমানের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সমস্যাগ্রস্ত উড়োজাহাজটি আগে থেকেই ইঞ্জিন ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন হ্যাংগারে মেরামতের অপেক্ষায় ছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পর এটি ব্যাংকক রুটে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু পুরোনো সেই ত্রুটি আবারও ফিরে আসে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা বলেন, ফ্লাইটটি উড্ডয়নের প্রায় এক ঘণ্টা পর ফেরত আসে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে প্রকৌশল বিভাগ।
উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েকদিন আগেই গত ২৮ জুলাই দাম্মামগামী বিমানের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটও মাঝ আকাশ থেকে ফিরতে বাধ্য হয়। সেবার বোয়িং ৭৭৭-ইআর মডেলের উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের এক ঘণ্টা পর যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হলে বিকাল ৪টা ৩৩ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করে।
একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটির এমন পুনরাবৃত্তি বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নীতিমালার ওপর প্রশ্ন তুলেছে, বলছেন বিমান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।








