ব্রাজিলের স্বাধীনতার ২০০ বছর পূর্তিতে দেশটির প্রথম সম্রাট ডম পেড্রো’র সুবাসিত করে সুরক্ষিত রাখা হৃৎপিণ্ড পর্তুগাল থেকে দেশটির রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় পৌঁছেছে।
বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে: ফর্মালডিহাইডে ভরা ফ্লাস্কে সংরক্ষিত হৃৎপিণ্ডটি পর্তুগাল থেকে একটি সামরিক বিমানে উড়িয়ে আনা হয়েছে।
জানা গেছে, জনসম্মুখে প্রদর্শনের আগে এটি সামরিক সম্মানের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। ব্রাজিলের স্বাধীনতা দিবসের পর পর্তুগালে ফিরিয়ে দেওয়া হবে পেড্রোর হৃৎপিণ্ডটি।
এর আগে, পর্তুগালের পোর্তো শহর থেকে সংরক্ষিত থাকা পেড্রো’র হৃৎপিণ্ডটি ব্রাজিলের স্বাধীনতার দ্বিশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে ব্রাজিলে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। হৃৎপিণ্ডটির সঙ্গে ব্রাজিলে এসেছেন পোর্তোর মেয়র রুই মোরেরা।
জানা যায়: ডম পেড্রো ১৭৯৮ সালে পর্তুগালের রাজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। নেপোলিয়নের আক্রমণ এড়াতে পরিবারটি তৎকালীন পর্তুগিজ উপনিবেশ ব্রাজিলে পালিয়ে যায়।
১৮২১ সালে ডম পেড্রোর পিতা রাজা জন ষষ্ঠ পর্তুগালে ফিরে যাওয়ার সময় তিনি ২২ বছর বয়সী পেড্রোকে ব্রাজিলের রিজেন্ট (শাসক প্রতিনিধি) হিসেবে শাসন করার জন্য ছেড়ে দেন।
এক বছর পর, তরুণ পেড্রো পর্তুগিজ উপনিবেশ থেকে ব্রাজিলের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে পুনরায় পর্তুগালে ফিরে যাওয়ার রাজ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
১৮২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ব্রাজিলের স্বাধীনতার ঘোষণা জারি করে নিজেকে সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন।
৩৫ বছর বয়সে পর্তুগিজ সিংহাসনে তার মেয়ের অধিকারের জন্য লড়াই করাতে তিনি পর্তুগালে ফিরে যান।সেবছরই যক্ষ্মা রোগে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুশয্যায়, পেড্রো বলে যান- যে তার হৃৎপিণ্ড শরীর অপসারণ করে, যেন পোর্তো শহরের একটি গির্জার বেদীতে সংরক্ষিত করে রাখা হয়।
স্বাধীনতার ১৫০ বছর পূর্তিতে ১৯৭২ সালে পেড্রোর মরদেহ পর্তুগাল থেকে ব্রাজিলে সাও পাওলোতে স্থানান্তরিত করা হয়।










