সামাজিক মাধ্যম এক্স-এর সিইও ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে মাদক অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তিনি স্বীকারও করেছেন যে তিনি নিয়মিত কিটামিন গ্রহণ করেন। তবে তার দাবি, তার এ মাদকের প্রেসক্রিপশন রয়েছে এবং দুই সপ্তাহে একবার ‘সীমিত পরিমাণে’ এই মাদক নেন।
এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ মে) পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে এক সমাবেশ শেষ করে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
এ প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকেরা ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে মাস্কের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি (ইলন মাস্ক) একজন চমৎকার মানুষ। আমি ইলনকে একজন অসাধারণ ব্যক্তি বলেই মনে করি এবং তাকে নিয়ে আমার কোনো উদ্বেগ নেই। আমার মতে তিনি দারুণ একজন ব্যক্তি।’
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে তার উপস্থিতি বেশ আলোচিত হয়েছিল। সেখানে বক্তৃতার সময় তিনি কিছুটা হোঁচট খান এবং প্রশ্ন তোলেন যে ফোর্ট নক্সে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সুরক্ষিত ভল্ট ভবন) আসলেই স্বর্ণ সংরক্ষিত আছে কি-না।
এছাড়াও, এক্স-এ তার গভীর রাতের পোস্ট, সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পাঠানো ই-মেইল এবং টেলিভিশনে দেওয়া তার এলোমেলো মন্তব্য—এসব কারণেই জনমনে তার ‘কিটামিন’ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
মাস্ক অবশ্য এর আগে স্বীকারও করেছেন যে, তিনি নিয়মিত কিটামিন গ্রহণ করেন। তবে তার দাবি, তার কাছে এর প্রেসক্রিপশন রয়েছে এবং তিনি দুই সপ্তাহে একবার ‘সীমিত পরিমাণে’ এই মাদক নেন।
২০২৪ সালের মার্চে সাংবাদিক ডন লেমনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যদি আপনি খুব বেশি কিটামিন খান, তাহলে আসলে কাজ করা সম্ভব হয় না, আর আমার অনেক কাজ আছে।’
কিটামিনকে ‘ডিসোসিয়েটিভ ড্রাগ’ বলা হয়। কারণ এটি গ্রহণের পর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ব্যক্তি শরীর, আবেগ ও সময়ের প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করতে পারেন। নিয়মিত এবং অতিরিক্ত কিটামিন গ্রহণ মস্তিষ্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে স্মৃতিভ্রংশ, বিভ্রান্তিকর চিন্তাভাবনা, কুসংস্কারে বিশ্বাস এবং নিজেকে অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
কিটামিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি ব্যবহারকারীদের বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। ১৯৭০ সালে এটি অ্যানেসথেটিক হিসেবে অনুমোদিত হয়। কারণ এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর তেমন প্রভাব না ফেলেই ব্যক্তিকে অচেতন করতে পারে।
১৯৯০-এর দশকে এটি ‘স্পেশাল কে’ নামে আনন্দদায়ক মাদক হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০০০-এর দশকে গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, অল্প মাত্রার কিটামিন মস্তিষ্কের নিউরোন সংযোগে পরিবর্তন ঘটিয়ে বিষণ্ণতার লক্ষণ দ্রুত কমাতে পারে।
২০১৯ সালে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ‘এসকিটামিন’ (কিটামিনের একটি পরিবর্তিত রূপ) নামে একটি নাসাল স্প্রে অনুমোদন দেয়, যা ‘স্প্রাভাটো’ নামে বাজারজাত করা হয়। এটি কেবল চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এবং অনুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা হয়।
তবে স্প্রাভাটোর অনুমোদনের পর সাধারণ কিটামিনের প্রেসক্রিপশনও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। যেহেতু এটি ইতোমধ্যে অ্যানেসথেটিক হিসেবে এফডিএ অনুমোদিত, তাই ‘অফ-লেবেল’ (অনুমোদিত ওষুধের অননুমোদিত ব্যবহার) ব্যবহারে কোনো বাধা ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিশেষায়িত কিটামিন ক্লিনিক তৈরি হয়েছে, যেখানে ইনজেকশন ও লজেন্সের মাধ্যমে উদ্বেগ ও পিটিএসডির মতো মানসিক সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হয়। একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে ২০২৩ সালে কিটামিন শিল্পের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।








