প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে রাজধানী ঢাকায় কার্যত কোথাও ট্রাফিক পুলিশ নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে পুরো রাজধানীর রাস্তায় ট্রাফিক সামলাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পাচ্ছেন রাজধানীবাসীর প্রশংসাও। সেই শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ক’দিন ধরেই রাস্তায় ট্রাফিক সামলাতে দেখা যাচ্ছে চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।
ট্রাফিক পুলিশের অবর্তমানে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নেমে এসে ট্রাফিক সামলানোর ঘটনায় উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন কাঞ্চন। সেই সাথে ঢাকাজুড়ে তারা যেভাবে শৃঙ্খলার সাথে ট্রাফিক সামলাচ্ছেন, সেটাকেও আগামি দিনের জন্য উদাহরণ হিসেবে মনে করেন এই নায়ক।
কাঞ্চন বলেন, ‘সড়ক সামলাতে শিক্ষার্থীদের দেখলাম কেউই এক মুহূর্তের জন্য বসে নেই। কারণ দেশের মানুষের নিরাপত্তার ব্রত নিয়ে তারা মাঠে নেমেছে। তারা তাদের কাজটাকে ভালোবেসেছে। প্রত্যেক মানুষেরই নিজের করা কাজকে ভালোবাসতে হবে, শ্রদ্ধা করতে হবে। তবেই আউটপুট ভালো আসবে।’
রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়, কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন রাস্তায় তখন তেমনটা দেখা যায় না। সেই পর্যবেক্ষণের কথাও জানালেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের এই নেতা।
কাঞ্চন বলেন, “আরেকটা বিষয় খেয়াল করলাম, গাড়ির চালকরা শিক্ষার্থীদের সব নিয়ম মেনে চলছে। আর এটা তারা শ্রদ্ধা থেকেই মেনে চলছে। আসলে যে মানাবেন, তাকে শ্রদ্ধাশীলের জায়গায় থাকতে হয়। তাহলেই ন্যায় ও নিষ্ঠাবানের কথা হৃদয় থেকে মেনে চলার তাগিদ আসে। কিন্তু ঘুষ, দুর্নীতিপ্রবণ হলে সেটা আর আসে না।”
শৃঙ্খলতা এনে নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার্থীদের এমন প্রয়াস অন্তত ২ থেকে ৫ বছর চালু রাখার কথাও এসময় বলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এমনটা অব্যাহত রাখলে সড়কের সঠিক নিয়মগুলো মানুষের মস্তিষ্কে গেঁথে যাবে এবং রাস্তায় বের হলেই তারা নিয়ম মেনে চলবে।
এদিকে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) থেকে জানানো হয়, দেশের ক্লান্তিলগ্নে সড়কে ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নিসচা থেকেও সারাদেশের বেশকিছু শাখায় একযোগে ট্রাফিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।








