প্রতিবার বছরের দুই ঈদে জমে ওঠে সিনেমাঙ্গন। সেই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে নির্মিত হচ্ছে ১১টি সিনেমা। সংখ্যাটা জমজমাট শোনা গেলেও কিন্তু বিগত বছরগুলোর নিরিখে বলা যায়, এতসঙ্গে এতোগুলো সিনেমার মুক্তি অনেকটা শঙ্কার!
যদিও উৎসবমুখরতা ও দর্শক টানার দিক দিয়ে এটি ইতিবাচক মনে হতে পারে; তবে বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে এতগুলো সিনেমা মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ত্রির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। সিনেমা হল মালিক সমিতি বলছে, দেশজুড়ে সক্রিয় প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা সীমিত, পাশাপাশি দর্শকসংখ্যাও আগের মতো স্থিতিশীল নয়। ফলে প্রতিটি সিনেমার জন্য পর্যাপ্ত স্ক্রিন, শো-টাইম এবং দর্শক পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে!
স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে করে মানসম্পন্ন সিনেমাগুলোও প্রতিযোগিতার চাপে পড়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যবসায়িক সাফল্য পায় না, বরং ভুক্তভুগী হতে হয় সবাইকে ! হলের পরিমাণ এবং ব্যবসায়িক ভারসাম্যের দিক থেকে এতগুলো সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি পাওয়া কতটা যৌক্তিক?
রোজার ঈদের বাকি আছে তিনমাস ! ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ঠরা নেমে পড়েছেন শুটিংয়ে। কেউ কেউ আবার চলতি সপ্তাহেই শুটিংয়ে নামছেন। এখন পর্যন্ত ১১টির মতো সিনেমার কথা জানা গেছে, যেগুলো ঈদে মুক্তির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রিন্স (ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা), দম, রাক্ষস, বনলতা এক্সপ্রেস, ট্রাইব্যুনাল, মালিক, তছনছ, পিনিক, পরিচালক রায়হান রাফীর নাম চূড়ান্ত না হওয়া এক সিনেমা।
শিরিন সুলতানার প্রযোজনায় আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় মেগাস্টার শাকিব খানের ‘প্রিন্স’। এতে আরও অভিনয় করবেন তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুসহ অনেকে। শাহরিয়ার শাকিলের প্রযোজনায় ‘দম’-এ অভিনয় করছেন চঞ্চল চৌধুরী, আফরান নিশো, পূজা চেরী। তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ থাকছেন চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, সাবিলা নূর, শরিফুল রাজ, আজমেরী হক বাঁধন।
রায়হান খান পরিচালিত ‘ট্রাইব্যুনাল’-এ আদর আজাদ, তানিয়া বৃষ্টি, মৌসুমী হামিদসহ অনেকেই আছেন। সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’-এ আছেন আরিফিন শুভ ও মীম। বলিউড আলম খোকন পরিচালিত ‘তছনছ’ সিনেমায় আছেন মুন্না খান ও ববি হক। জাহিদ জুয়েল পরিচালিত ‘পিনিক’ সিনেমায় রয়েছেন আদর আজাদ এবং শবনম বুবলী। রায়হান রাফী ‘তিন নায়িকা’ নিয়ে নতুন একটি সিনেমা নির্মাণ করতে যাচ্ছেন।
এছাড়া নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত নাবিলা ইসলাম অভিনীত ‘বনলতা সেন’, এবং রাশিদ পলাশ পরিচালিত পিয়া জান্নাতুল, মৌসুমী হামিদ, তানজিকা আমীন ‘রঙ বাজার’ সিনেমা দুটিও ঈদে মুক্তি পেতে, এমনটাই জানা গেছে।
তবে, অতীত ক্যালেন্ডারে চোখ রাখলে দেখা যায়, অধিকাংশ সিনেমা ঈদে আসবে বলে আওয়াজ দেয়া হলেও শেষ মুহূর্তে ছিটকে পড়ে। কারণ, ঈদে সিনেমা মুক্তি নিয়ে জোর আলোচনা তৈরি হয়। সেই আলোচনা উঠে আসে সংবাদমাধ্যমে। সেই আলোচনার অংশ হতে এমন ‘কৌশল’ অবলম্বন করেন অনেকেই। আবার, অনেকে হল না পেয়ে অনেকে সরে যান। কেউ আবার সিনেমা চালাতে অনুরোধ করতেও শোনা যায়।
সারাবছর নতুন সিনেমার খবর পাওয়া না গেলেও বছরের দুই ঈদে থাকে নতুন সিনেমা মুক্তি দেওয়ার এই ‘ম্যারাথন দৌড়’ প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে স্টার সিনেপ্লেক্সের সিনিয়র ম্যানেজার (মিডিয়া ও মার্কেটিং) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঈদের অনেকগুলো সিনেমা এলে ক্ষতিটা হয় সবচেয়ে ভালো সিনেমাটির। অন্যগুলোর সঙ্গে অ্যাকোমোডেট করতে গিয়ে ভালো সিনেমাটির শো কমে যায়। এতে ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতি হয়। আমরা প্রতিবার বলতে পারি এতোগুলো সিনেমা ঈদে একসঙ্গে আসা ঠিক না। এর বেশি কিছু করার ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই।
মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, ঈদ ছাড়া অন্য সময়ে সিনেমা মুক্তি দিতে প্রযোজক-পরিচালকরা হয়তো আত্মবিশ্বাস পান না। তিনি বলেন, তাদের আত্মবিশ্বাস কম থাকায় টোটাল ইন্ডাস্ট্রিটা ক্ষতির মুখে পড়ছে। দর্শক শুধু ঈদে বাংলা সিনেমা দেখবে অন্য সময় দেখবে না তাহলে তো হবে না। আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, ধারাবাহিকভাবে ভালো সিনেমা দিতে পারলে দর্শক সারাবছরই সিনেমা হলে এসে বাংলা সিনেমা দেখেন।
চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি বলছে, বর্তমানে দেশে চালু সিনেমা হলের সংখ্যা ৫৫টির মতো। তবে ঈদে হয়তো বছর জুড়ে শ’খানেক বন্ধ সিনেমা হল চালু হতে পারে।
সংগঠনটির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জল বলেন, আগামী ঈদে সর্বোচ্চ ১৬০ থেকে ১৮০টি সিঙ্গেল স্ক্রিন খোলা থাকতে পারে। এই তুলনায় ঈদে সর্বোচ্চ ৪টি সিনেমা মুক্তি পাওয়া উচিত। বাকি সিনেমাগুলো পরবর্তীতে আসা উচিত। তবে নীতিমালায় আছে ঈদে সিনেমা মুক্তি সংখ্যা উন্মুক্ত, যে কেউ চাইলেই আসতে পারে। আমি নতুন সভাপতি হয়েছি। এবার চেষ্টা করবো ঈদে সিনেমা মুক্তি নিয়ে একটা শৃঙ্খলা আনার।








