মাত্র ২৪ বছরেই থেমে গেল টলিউড অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার জীবন। জীবনযুদ্ধের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি। রেখে গেলেন শূন্যতা।
তার সেই শূন্যতার তাড়াতেই অভিনেত্রীর অকাল প্রয়াণে তাকে স্মরণ করছেন টলি তারকারা।
অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। নিজের ফেসবুক পেজ থেকে প্রসেনজিৎ স্বল্প প্রতিক্রিয়ায় অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন ঐন্দ্রিলার উদ্দেশ্যে। লিখেছেন কেবল মাত্র দু’টি বাক্য, ‘‘ভাল থেকো ঐন্দ্রিলা। তোমার ইচ্ছাশক্তি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকুক।’’
এই দুই বাক্যের মাধ্যমেই প্রসেনজিৎ বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন তরুণ অভিনেত্রীর মৃত্যুতে তিনি কতটা শোকাহত।
ঐন্দ্রিলার স্মরণে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ খ্যাত অভিনেত্রী জুন মালিয়া লিখেছেন, “কী বলব? কিছু তো বলার নেই। এত অল্প বয়সে চলে গেল ঐন্দ্রিলা। কিছুতেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। মাত্র ২৪ বছর বয়স। এটা কি কারও চলে যাওয়ার সময় হতে পারে? কিন্তু কী যুদ্ধটাই না করল মেয়েটা। সত্যি কথা বলতে ঐন্দ্রিলা তো চলে গেল! কিন্তু এখন ওঁর মা, বাবা, সব্যসাচীর জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। ঈশ্বর যেন ওদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দেন। ঐন্দ্রিলা যেখানেই থেকো, যেন ভাল থাকো। এখন এই প্রার্থনা করা ছাড়া তো আমাদের আর কোন উপায় নেই।”
একসময় অভিনেতা জয় মুখোপাধ্যায়ের সাথে ঐন্দ্রিলার তিক্ততার সম্পর্ক থাকলেও অভিনেত্রী প্রয়াণে তাকে স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেছেন জয়। তিনি লিখেছেন, “আমি এই মুহূর্তে পুণেতে আছি। এত দূরে আছি, কী বলব বুঝতে পারছি না। আমার সঙ্গে একদিন ঐন্দ্রিলার ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। কিন্তু তার আগের যে একশো দিন আমরা শুট করেছি, সেই কথাটা কেউ মনে রাখল না। দু’জনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল ঠিকই। তা থানা পর্যন্তও গড়িয়েছিল। পরিস্থিতির জন্য একে অপরের থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম আমরা। তিক্ত স্মৃতিও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তার পর যে আর কোনও দিন কথা হবে না, সেটা ভাবতেই পারিনি।ও কত ছোট আমার থেকে। সবে তো ২৪ বছর বয়স হয়েছিল। কত কত স্বপ্ন। ওর ছোট ছোট স্বপ্নের কথা শুটিংয়ের ফাঁকে মাঝে মাঝেই বলত আমায়। কিন্তু ওই একটা দিনের একটা ঘটনা সব সম্পর্কটাই নষ্ট করে দিয়েছিল। এই দিনে সেই স্মৃতিগুলোই ফিরে ফিরে আসছে।”
একই সঙ্গে অভিনেত্রীর অকালপ্রয়াণে ২৪ বছরের ‘ফাইটার’কে কুর্নিশ জানালেন ভারতের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে ‘অসাধারণ প্রত্যাবর্তন’ বিভাগে টেলিসম্মান অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে জানিয়ে মমতা লিখেছেন, কর্মজীবনের সাফল্যের পাশাপাশি দৃষ্টান্ত হয়ে থেকে যাবে ঐন্দ্রিলার লড়াই। দু’বার ক্যানসারজয়ী তরুণী ফিরে গিয়েছিলেন অভিনয়ে। হাসিখুশি মুখে মন জয় করে নিয়েছিলেন সবার। কিন্তু শেষ লড়াইয়ে হার হল লড়াকু মেয়েটিরও। তিনি আরও লিখছেন, “মারণরোগের বিরুদ্ধে অদম্য মনোবল নিয়ে তিনি যে ভাবে লড়াই করেছেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁর ট্রাজিক প্রয়াণ অভিনয় জগতের এক বড় ক্ষতি। আমি ঐন্দ্রিলা শর্মার পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।”
গত ১ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ভর্তি করা হয় হাওড়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে ঐন্দ্রিলার। কোমায় চলে যান তিনি। রাখা হয় ভেন্টিলেশনে। আর ফেরেনি জ্ঞান। অবশেষে রবিবার (২০ নভেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে হাসপাতালেই প্রয়াত হলেন অভিনেত্রী।







