শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে ছুরতন নেছা নামের একজন বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) গভীর রাতে উপজেলার বাতকুচি নামাপাড়া পুরনো ফরেস্ট অফিস এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ছুরতন নেছা ওই গ্রামের মৃত রঙ্গু শেখের স্ত্রী। বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই বাতকুচি ও পলাশিকুড়া এলাকায় বন্যহাতির দল তাণ্ডব চালিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছুরতন নেছার বসতবাড়িতে হানা দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে একটি হাতি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে টানা বৃষ্টির মধ্যে ১৫-২০টি বন্যহাতির একটি দল খাদ্যের সন্ধানে পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমে আসে। ওই সময় ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ছুরতন নেছাকে একটি বন্যহাতি শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে বাইরে এনে উঠোনে আছড়ে ফেলে এবং পায়ে পিষ্ট করে মর্মান্তিকভাবে হত্যা করে।
তিনি আরও জানান, গত বছরও ছুরতন নেছার বাড়িতে হাতির আক্রমণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এবং সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণও প্রদান করা হয়েছিল।
এছাড়াও, গত কয়েক রাত ধরে মধুটিলা ইকোপার্কের রেস্টহাউজ, ক্যান্টিন ও বীট অফিসসহ আশপাশের এলাকা হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধুটিলার বুরুঙ্গা এলাকাতেও একটি ৪০-৪৫টি হাতির দল ৮টি বসতঘর ভাঙচুর করে। ঘরে মজুদকৃত ধান-চাল ও রান্না করা খাবার খেয়ে ফেলে। বাতকুচি পাহাড়ে একটি সিনেমার শুটিং ইউনিটের সেটেও হামলা চালায় হাতির দল, ফলে ব্যাপক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে, বারবার হাতির আক্রমণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।







