ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রবিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীর উপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২ মার্চ) ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় শনিবার রীতিমত রণক্ষেত্রে রূপ নেয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ৷
তবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য অভিযোগ করেন, ছাত্রছাত্রীরা তাকে হেনস্থা করেছেন৷
কী হয়েছিল শনিবার?
শনিবার তৃণমূলের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপার একটি সভায় ক্যাম্পাসে যান শিক্ষামন্ত্রী৷ বহুবছর ধরে ক্যাম্পাসে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এসএফআই, আরএসএফ-সহ বাম ছাত্রদলগুলো মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের দাবি জানায়৷
শিক্ষামন্ত্রী ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর থেকেই বিক্ষোভরত ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল করে৷ তাদের সঙ্গে তৃণমূলের ঝামেলার শুরু তখন থেকেই৷
সভার মাঝেও স্লোগান চলতে থাকে৷ তবে মূল গণ্ডগোল বাঁধে সভা শেষে৷ শিক্ষামন্ত্রী ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা তার গাড়ি আটকে দেয়৷ মন্ত্রী প্রথমে এগিয়ে এলেও অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থিত ওয়েবকুপার কর্মীরা তাকে গাড়িতে তুলে দেন৷ এই সময় তার গাড়ির উপর চড়াও হয় ছাত্র-ছাত্রীরা৷
শিক্ষার্থীরা জানায়, হটাৎ মন্ত্রীর গাড়িটি গতি বাড়িয়ে বের হতে গেলে তার চাকার সামনে পড়েন প্রথম বর্ষের ছাত্র ইন্দ্রানুজ রায়৷ তার মাথা ফেটে যায়৷ বাঁ চোখের উপরের হাড়ে ও পায়ে গুরুতর চোট নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি৷
পরে সংবাদমাধ্যকে ইন্দ্রানুজ বলেন, আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম৷ উনি প্রস্তুত ছিলেন৷ পরে তৃণমূল কর্মীরা ওনাকে গাড়িতে তুলে দেন৷ আমরা উনার সঙ্গে কথা বলতেই গিয়েছিলাম৷ হটাৎ গাড়ি চালিয়ে দেন৷
তিনি জানান, গাড়ির ধাক্কায় তারা ছিটকে পড়েন৷ এসময় বাঁ পায়ের উপর দিয়ে গাড়ি চলে যায়৷ চোখেও আঘাত লাগে৷ এছাড়াও মাথা ফেটে যায়।
এই ঘটনার পরে ব্রাত্য বসু এসএসকেএম হাসপাতালে যান৷ ঘটনার নিন্দা করে তিনি বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম৷ ওরা নৈরাজ্য করেছে।
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এদিন হাসপাতালে ব্রাত্যর সঙ্গে দেখা করেন৷ পরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর উপর ‘প্রাণঘাতী হামলা করেছেন ছাত্ররা’৷
তিনি বলেন, আমি শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাবো তিনি সংযম দেখিয়েছেন৷ কোনো প্ররোচনায় পা দেননি৷ কিন্তু তৃণমূলের সৌজন্যকে এরা যেন দুর্বলতা না ভাবে৷








