মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া রেলওয়ে ওভার ব্রিজ থেকে ইজিবাইক চালক শাহাদতকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়ে ইজিবাইক ছিনতাই করে একটি চক্র। চালক শাহাদাত হাওলাদারের ব্রিজ থেকে নিচে ফেলায় মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দস্যুতাসহ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মৃতের ভাই শহিদুল ইসলাম জসিম।
পরে শাহাদত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ চক্রের সাতজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০। শুক্রবার ২৮ এপ্রিল ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. জুয়েল বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মো. সাজ্জাদ শেখ, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. লিমন মাতুব্বর, মো. সোহাগ , রোমান শিকদার ও মো. জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার ২৯ এপ্রিল বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
জানা যায় ২২ এপ্রিল ঈদের দিন জুয়েল, সাজ্জাদ, লিমন, রোমান, ইসমাইল ও সোহাগ মিলে মাওয়া ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশে শাহাদাতের ইজিবাইকটি ভাড়া করে এবং বেড়ানোর সময় তারা ইজিবাইকটি ছিনতাই করবে বলে পরিকল্পনা করে। ঈদের দিন রাতে ছিনতাইকারীরা সফল না হওয়ায় পরদিন ২৩ এপ্রিল বিকাল ৫টার শাহাদাতকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কল করে কদমতলী লাবনী রেস্টুরেন্টের সামনে ডেকে আনে। সেখান থেকে জুয়েল, সাজ্জাদ ও লিমন ইজিবাইকে উঠে এবং কিছুক্ষণ পর ইসমাইলকে ফোন দিয়ে কালীগঞ্জ খালপাড়ে থাকতে বলে।

কালীগঞ্জ থেকে ইসমাইলকে সাথে নিয়ে তারা মাওয়ার উদ্দেশে রওনা করে। পরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরাফেরা শেষে ফেরার পথে আনুমানিক রাত ১১টায় সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া রেলওয়ে ওভার ব্রিজের ওপরে এসে ইজিবাইক থামিয়ে গল্প করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর তারা আশপাশে কোন লোকজন দেখতে না পেয়ে জুয়েল, সাজ্জাদ, ইসমাইল ও লিমন ভুক্তভোগী শাহাদাতের মুখ, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারি কিলঘুষি মারতে থাকে। মারামারির একপর্যায় ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পরলে দুর্বৃত্তরা ভিকটিম শাহাদাতকে ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।পরদিন ব্রিজের নিচ থেকে শাহাদতের লাশ উদ্ধার করে পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন: গ্রেপ্তারদের ইজিবাইক ছিনতাই করা পেশা। ইজিবাইক ছিনতাই করে গ্যারেজ মালিক জাকিরের কাছে ২০-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করত। জাকির ইজিবাইকের রং ও কাঠামো পরিবর্তন করে অধিকমূল্যে অন্যত্র বিক্রি করত। এই ছিনতাই গ্রুপের সঙ্গে তার যোগসাযোগ ছিল। এছাড়া গ্রেপ্তার জুয়েল, লিমন ও ইসমাইলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা চেষ্টা ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।







