কক্সবাজার শহরে ‘মাদকের সেবনের জন্য টাকা’ চেয়ে না পাওয়ায় মাকে কুপিয়ে হত্যার পর পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছে ঘাতক ছেলে। তবে পুলিশ বলেছে, হত্যার ঘটনায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার ২৩ নভেম্বর সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস খান বলেন, শুক্রবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিলংজা পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ারা বেগম (৫৫) একই এলাকার নিয়াজ আহমেদের স্ত্রী। গ্রেপ্তার যুবক হোসাইন মোহাম্মদ আবিদ (২৮) নিহতের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কিছুদিন আগে আবিদের বাবা একটি জায়গা বিক্রি করেন। সেই টাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়াজ আহমেদ স্ত্রীসহ চট্টগ্রামে বসবাসকারি এক মেয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে আবিদের মা আনোয়ারা বেগম কক্সবাজার ফিরেন। রাতে মায়ের কাছে আবিদ টাকা চায়। কিন্তু মা ছেলেকে টাকা দিতে অপারগতা জানায়। এ নিয়ে সে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে উশৃঙ্খল আচরণ শুরু করেন। ঝগড়ার একপর্যায়ে রাতে খাবার খেয়ে মা-ছেলে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে ধারালো দা দিয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
ওসি বলেন, ঘটনার পর ঘাতক আবিদ মায়ের শয়ন কক্ষের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে থানায় উপস্থিত হয়। পরে নিজ হাতে কুপিয়ে মাকে হত্যার ঘটনা পুলিশের কাছে অবহিত করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখায়।
তিনি বলেন, নিহত নারীর মুখ, হাত ও মাথার কয়েকটি স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ইলিয়াছ খান বলেন, সকালে ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় নিহত নারীর শয়ন কক্ষের দরজা বাহির থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজা খুলে খাটের উপর শোয়া অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। এসময় মৃতদেহের পাশ থেকে একটি ধারালো দা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, আবিদ প্রায়ই মাদকের টাকার জন্য মাকে মারধর করতেন। টাকা না দিলে সে ঘরে উশৃঙ্খল আচরণ করতো।
ওসি জানান, ঘটনায় প্রাথমিকভাবে মাদকের সেবনের টাকা চেয়ে না পাওয়ায় মাকে খুনের তথ্য পেয়েছেন। তারপরও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ কাজ করছে।
স্থানীয়রা জানায়, হোসাইন মোহাম্মদ আবিদ একজন মাদকাসক্ত ও উশৃঙ্খল প্রকৃতির ছেলে। মাদক সেবনের টাকার জন্য সে বাড়িতে প্রায় সময় ঝগড়া-বিবাদ করত। শুক্রবার গভীর রাতে মাদকের জন্য টাকা চেয়ে না পাওয়ায় মাকে কুপিয়ে খুন করেছে। নৃশংস এ ঘটনার জন্য ঘাতক ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি ইলিয়াস খান। সেই সাথে মাকে হত্যা করার আলামতসহ সবকিছু পুলিশ সংগ্রহ করেছে এবং বিশেষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।








