ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় মহান আল্লাহর রহমত কামনায় ‘নফল ইবাদত-বন্দেগীর’ মধ্যদিয়ে পবিত্র শবে বরাত পালন করেন। আজ সেই পবিত্র রাত।
এ রাতে মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকারসহ বিভিন্ন ইবাদত বন্দেগী করে থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিারা। তবে তাদের জেনে রাখা উচিত আজকের রাতে তারা আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য কি কাজ করবেন এবং কি কাজ থেকে বিরত থাকবেন।
এ পবিত্র রাতে যা করবেন:
আমল করা
মুসলিমদের উপর আল্লাহ তা’আলা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। ফরজ ইবাদাতের পাশাপাশি মুমিন ব্যক্তিরা যেন আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারেন সেজন্য পবিত্র শবে বরাতের রাতে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি জিকির আসকারসহ বিভিন্ন ইবাদতে মশগুল থাকা উচিত ধর্মপ্রাণ মুসিল্লিদের। এই নামজ যে যত বেশি ইচ্ছা পড়তে পারেন। এ রাতে কোরআন তিলাওয়াত করা, আল্লাহর কাছে তওবা করা, ইস্তিগফার ও ক্ষমা প্রার্থনা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে রাত কাটানোতে আছে অনেক নেকি। শবে বরাতের সব আমলই নফল। আর নফল আমল নিজ নিজ ঘরে একাগ্রচিত্তে আদায় করাই উত্তম।
রোজা রাখা
আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন অর্ধ শাবানের রাত তোমাদের সম্মুখে আসে, তখন তোমরা তাতে কিয়াম তথা নামাজ আদায় করো এবং পরবর্তী দিনটিতে রোজা রাখো।’ (ইবনে মাজাহ: ১৩৮৮)
দান-সাদকা করা
অন্যের উপকারে দান করার কোনো বিশেষ দিন প্রয়োজন হয় না। তবে, আমাদের মাঝে এমন অনেক অসহায় মানুষ থাকে যারা মুখ ফুটে সাহায্য চাইতে পারেন না। আমাদের চেষ্টা থাকা উচিত সেইসব মানুষকেও সাহায্য করা।
কবরস্থান জিয়ারত
মুসলিম ব্যক্তিরা তাদের বাবা-মা বা আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুর পর তাদের কবরে আল্লাহর হেফাজতে রেখে আসেন। আজকের এই পবিত্র রাতে কবরস্থানে গিয়ে সেই মানুষগুলোর কবরের পাশে জিকির আসকার এবং দোয়া করায়ও নেকি আছে। এই নেকির ভাগ শুধু মুমিন ব্যক্তি নয় সকল মৃত ব্যক্তিরাও পান।
আজকে যা করা থেকে বিরত থাকবেন:
অতিরিক্ত বাতি দিয়ে সাজানো
শবে বরাত উপলক্ষে অনেক পাড়া-মহল্লা এবং বাসা বাড়ি অতিরিক্ত বাতি দিয়ে সাজানো হয় আনন্দ প্রকাশ করতে। এই আলোকসজ্জা থেকে বাদ যায় না মসজিদও। তবে এটি অনুচিত। কারণ, শবে বরাতের রাত শুধু আল্লাহর ইবাদত করার জন্য।
আতশবাজি ও পটকা ফোটানো
ইবাদতের এই রাতে মাথায় টুপি ও হাতে তসবিহ নিয়ে আতশবাজি ছোড়ে এবং পটকা ফোটায় কিছু সংখ্যক লোক। অথচ এর মাধ্যমে সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বৃদ্ধ ও শিশুরা ভয় পেয়ে থাকে। এতে যেখানে-সেখানে অগ্নিকাণ্ডও ঘটতে পারে। শবে বরাতের সঙ্গে এ ধরনের কাজের সম্পর্ক দূরে থাক, ইসলামের সঙ্গে এসব কাজের কোন সম্পর্ক নেই।







