নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে বহুল আলোচিত প্রার্থী জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার’ করার হুমকির জবাবে তার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্প শ্রমজীবী মানুষদের সঙ্গে নিজের বিশ্বাসঘাতকতা আড়াল করতে গিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করছেন।
আজ (৩ জুলাই) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মামদানি নিউইয়র্কের হোটেল অ্যান্ড গেমিং ট্রেডস কাউন্সিল সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সমাবেশে ট্রাম্পের এই ভাষাকে ‘বিভাজনের আগুনে ঘি’ বলে অভিহিত করে বলেন, শেষ পর্যন্ত তার পক্ষে শ্রমজীবীদের প্রতি নিজের বিশ্বাসঘাতকতার কথা স্বীকার করা সহজ নয়, তাই বিভাজন উসকে দেওয়াই তার জন্য সহজ।
তিনি বলেন, ট্রাম্প বলেছেন আমাকে গ্রেপ্তার করা উচিত, বহিষ্কার করা উচিত, এমনকি আমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া উচিত। তিনি এমন একজনকে এসব বলছেন, যিনি কয়েক প্রজন্ম পর এই শহরের প্রথম অভিবাসী, প্রথম মুসলিম এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় মেয়র হতে পারেন। পরিচয়ের কারণে নয়, বরং আমাদের সংগ্রামের কারণে তিনি এসব বলছেন। আমি লড়াই করি শ্রমজীবী মানুষের জন্য।
৩৩ বছর বয়সি মামদানি দাবি করেন, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছেন, কারণ এতে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরে যায়—বিশেষ করে তার প্রশাসনের সেইসব নীতির ব্যর্থতা থেকে, যা সাধারণ মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ট্রাম্প ইচ্ছে করেই এমন সমালোচনা করছেন যাতে সিনেটে পাসকৃত এবং বিতর্কিত ‘বিগ বিউটিফুল বিল’ নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা না হয়।
ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী মামদানি সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের প্রাইমারিতে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করে বড় চমক দেন। এই জয়ের পর থেকেই রিপাবলিকানরা তাকে ‘চরম বামপন্থী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যাতে আসন্ন নভেম্বরে ভোটারদের কাছে তাকে অচল ও বিপজ্জনক প্রার্থী হিসেবে প্রমাণ করা যায়।
ট্রাম্প একাধিকবার মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট’ এবং ‘পাগল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি এই কমিউনিস্ট উন্মাদকে নিউইয়র্ক ধ্বংস করতে দেব না। আমার হাতে সব ক্ষমতা আছে, সব তাস আমার হাতে। আমি নিউইয়র্ক সিটিকে আবার ‘হট’ এবং ‘গ্রেট’ করে তুলব।








