সম্প্রতি ‘এপস্টেইন নথি’ ফাঁস-এর কারণে নতুন করে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এলেও ক্ষমতাধর কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইনের কুকীর্তির বয়ান বিগত কয়েক বছর ধরেই উঠে আসছিলো বিভিন্ন ডকুফিল্মে! তাকে গ্রেপ্তার ও মৃত্যুর কয়েক বছর পরও এপস্টেইনের নাম জনমনে এতটা প্রাসঙ্গিক থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একের পর এক ডকুমেন্টারি। এসব নির্মাণে উঠে এসেছে এপস্টেইনের ভয়াবহ অপরাধ, ক্ষমতাবানদের সাথে যোগাযোগের জাল এবং সেই সব ভুক্তভোগীদের কণ্ঠ, যাদের দশকের পর দশক নীরব থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গভীর বিশ্লেষণ- জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে নির্মিত উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্টারিগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হলো এই ফিচারে:
জেফরি এপস্টেইন: ফিলদি রিচ
(নেটফ্লিক্স)
জেফরি এপস্টেইন বিষয়ে সবচেয়ে আলোচিত ও সবচেয়ে বেশী দেখা ডকুমেন্টারি সিরিজগুলোর একটি হলো ‘জেফরি এপস্টেইন: ফিলদি রিচ’। ২০২০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চার পর্বের সিরিজটি জেমস প্যাটারসনের একই নামের বই অবলম্বনে নির্মিত। এতে দেখানো হয়েছে- এপস্টেইনের বিপুল সম্পদের উত্থান, কিশোরীদের ওপর তার সংগঠিত যৌন নির্যাতন এবং কীভাবে বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতায় তিনি বছরের পর বছর শাস্তির বাইরে থেকে গেছেন!
এই সিরিজটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ভুক্তভোগীদের কণ্ঠকে প্রাধান্য দেওয়া। যারা এপস্টেইনের দ্বারা প্রলুব্ধ, নির্যাতিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়েছেন, তারা নিজের মুখেই বর্ণনা করেছেন- কীভাবে অর্থ, ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে তাদের নীরব রাখা হয়েছিল। সিরিজটিতে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ, অভিজাত সামাজিক যোগাযোগ এবং কারাগারে তার মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্কিত পরিস্থিতিও বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সারভাইবিং জেফরি এপস্টেইন
(লাইফটাইম, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও এবং হুলু)
ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টারি হলো ‘সারভাইবিং জেফরি এপস্টেইন’। লাইফটাইম চ্যানেলে প্রচারিত এই চার পর্বের সিরিজটি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত চরিত্রের চেয়ে বরং তার অপরাধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের দিকে বেশি দৃষ্টি দেন পরিচালক। ডকুমেন্টারিটিতে দেখা যায়- কীভাবে নারীরা এপস্টেইনের নেটওয়ার্কে যুক্ত হন, কীভাবে তাদের শোষণ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ন্যায়বিচারের জন্য তাদের সংগ্রামও তুলে ধরা হয় এটিতে। এপস্টেইনের মৃত্যুর আগেও এবং পরেও ভুক্তভোগীদের লড়াই থেমে থাকেনি। আবেগঘন ও নির্মম বাস্তবতায় ভরপুর এই সিরিজটি স্পষ্ট করে দেয়- এপস্টেইনের অপরাধের বিচার এখনও অসম্পূর্ণ।
হু কিলড জেফরি এপস্টিইন?
(হুলু, অ্যাপল টিভি, ডিসকভারি)
জেলের ভেতর এপস্টেইনের মৃত্যু ঘিরে বহু কথা প্রচলিত আছে। যারা এই কুখ্যাত ধনকুবেরের মৃত্যু রহস্য জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য ‘হু কিলড জেফরি এপস্টেইন?’ একটি ভিন্নধর্মী অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি হতে পারে! এতে নিউ ইয়র্কের কারাগারে এপস্টেইনের শেষ দিনগুলো, নিরাপত্তার কথিত গাফিলতি এবং মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করার পর উদ্ভূত নানা তত্ত্ব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এই সিরিজটি শুধু ‘কে হত্যা করল’- এই প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এপস্টেইনের অতীত, তার সম্পদের উৎস এবং উচ্চপর্যায়ে তার সামাজিক যোগাযোগের বিষয়টি নির্মাতা তুলে ধরেছেন। ট্রু ক্রাইম কাহিনি ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মিশেলে এটি দর্শকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
এপস্টেইন’স শেডো: গিসলেন ম্যাক্সওয়েল
(পিকক, স্কাই ডকুমেন্টারিস)
এপস্টেইনের গল্পে তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ছিলেন গিসলেন ম্যাক্সওয়েল। এপস্টেইনকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে গিসলেনই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র! তিন পর্বের এই ডকুমেন্টারি সিরিজটি ম্যাক্সওয়েলের জীবন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং মানবপাচার চক্রে তার ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়। যে অপরাধে তিনি পরবর্তীতে দোষী সাব্যস্ত হন। ডকুমেন্টারিটি দেখায়, কীভাবে ম্যাক্সওয়েল অভিজাত সমাজে অবাধ বিচরণ করেছেন এবং কীভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়োগ ও প্রলুব্ধ করার কাজে যুক্ত ছিলেন!
হু ইজ গিসলেন ম্যাক্সওয়েল?
(স্টারজ, চ্যানেল ৪)
ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে আরেকটি গভীর অনুসন্ধানী সিরিজ হলো ‘হু ইজ গিসলেন ম্যাক্সওয়েল?’। এতে তার পারিবারিক পটভূমি, সামাজিক অবস্থান এবং কীভাবে তিনি এপস্টেইনের জগতে প্রবেশ করেন, সেটা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সাক্ষাৎকার ও আর্কাইভ ফুটেজের মাধ্যমে এই ডকুমেন্টারি ম্যাক্সওয়েলকে কেলেঙ্কারির কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করে এবং দেখায়- ক্ষমতা ও বিশেষাধিকারের বলয়ে থেকে কীভাবে তিনি ও এপস্টেইন দীর্ঘদিন সুরক্ষা পেয়ে গেছেন।
এপস্টেইনকে ঘিরে আরও উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্টারি
জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারির নির্দিষ্ট দিক নিয়ে নির্মিত আরও কিছু ডকুমেন্টারি রয়েছে। এর মধ্যে দ্য প্রিন্স এন্ড দ্য এপস্টেইন স্ক্যান্ডাল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পপর্যান্ট








