ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানিয়েছেন, রাজধানীর বনশ্রী ও আফতাব নগরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে নড়াই নদীর ওপর নির্মিত হবে দুইটি সেতু। প্রস্তাবিত এই সেতুগুলোর নাম রাখা হবে ‘নড়াই সেতু’।
বনশ্রী-আফতাব নগরের যোগাযোগে আসছে নতুন যুগ, নদীপথে সম্ভাবনার কথা বলেছেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, শুধু খাল নয়, এটি এক সময় প্রবাহমান নদী ছিল। ফিরিয়ে আনা হচ্ছে নদীটির সেই পরিচয়।
শুক্রবার ১৮ জুলাই বনশ্রী খালপাড় এলাকায় আয়োজিত “ময়লা পরিষ্কার ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, এই দুটি সেতু নির্মাণ হলে বনশ্রী ও আফতাব নগরের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে প্রধান সড়ক ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। যে জলাধারকে আমরা এখন বনশ্রী খাল হিসেবে জানি, আশির দশকেও সেটি ছিল নড়াই নদী। অবৈধ দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে সেটি খালে রূপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, তবে সুখবর হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে এটিকে পুনরায় ‘নড়াই নদী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর ফলে নদীটির পুনঃপ্রবাহ ও সংরক্ষণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
নৌপথে যাত্রী পরিবহন চালুর সম্ভাবনা ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নড়াই নদী রক্ষা করতে পারলে ভবিষ্যতে রামপুরা থেকে নৌপথে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও বালু নদী হয়ে সদরঘাট ও মিরপুর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন চালু করা যেতে পারে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার অভ্যন্তরে পরিবেশবান্ধব ও যানজটমুক্ত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট’ বাধা বক্তব্যে প্রশাসক ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নাজুক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফুটপাতগুলোও দখলমুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেকের জন্য একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে, যা বাস্তবায়নে সহায়তা করছে বিশ্বব্যাংক।
‘গাছ লাগালেই হবে না, পরিচর্যাও দরকার’ অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, শুধু গাছ লাগালেই চলবে না। অন্তত দুই-তিন বছর ধরে সেগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই একটি সবুজ, টেকসই নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
নাগরিক সচেতনতা ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহরটা আমাদের সবার। এর সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদেরই। খালে ময়লা না ফেলার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।








