বাংলাদেশে ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতির বিরুদ্ধে লড়াইকে শক্তিশালী করতে টেকনো সার্ভে ইনক. ও মিলারস ফর নিউট্রিশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বাজারে ফর্টিফায়েড আটা প্রবর্তনের প্রযুক্তি ও উপকারিতা’ শীর্ষক কর্মশালা হয়েছে।
বুধবার (২৮ মে) ঢাকার গুলশানের লেকশোর হাইটসে আয়োজিত এই কর্মশালায় অংশ নেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মিল মালিক, খাদ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞসহ মোট ৫২ জন প্রতিনিধি।
কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি, যা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মাঝে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, তা দূর করতে আটায় পুষ্টি উপাদান সংযোজনের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা তুলে ধরা।
টেকনো সার্ভের কান্ট্রি প্রগ্রাম ম্যানেজার মো. গুলজার আহম্মেদ উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতির কারণে দেশে লাখো মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। প্রযুক্তি ও সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে, এই সমস্যা সহজেই সমাধানযোগ্য। তিনি সরকারি, বেসরকারি এবং উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
প্রধান অতিথি খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, ফর্টিফায়েড আটা শুধু পুষ্টির নিশ্চয়তা দেয় না, এটি একটি টেকসই জনস্বাস্থ্য কৌশল। এখন সময় এসেছে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে প্রসারিত করার, কারণ জনগণ এখন স্বাস্থ্য সচেতনতার দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছে।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক এস. এম. আবু সাঈদ বলেন, তিনি আশাবাদী যে ফর্টিফিকেশন সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে ফর্টিফায়েড আটার মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মনীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
টেকনো সার্ভের সিনিয়র ফুড ফর্টিফিকেশন স্পেশালিস্ট মো. নাঈম জোবায়ের তার মূল প্রবন্ধে বলেন, আটায় পুষ্টি উপাদান সংযোজন একটি সহজ, ব্যয় সাশ্রয়ী এবং টেকসই সমাধান। এটি কেবল স্বাস্থ্য উন্নয়ন নয়, অর্থনীতিতেও দীর্ঘ মেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি প্রযুক্তিগত দিক, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং উদ্ভাবনের জায়গাগুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মঈনউদ্দিন মাসুদ এবং উপদেষ্টা মোহাম্মদ সোহাগ, সরকারি ওএমএস খাতে ফর্টিফায়েড আটা সরবরাহের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এসিআই ফুডস লিমিটেড-এর চিফ বিজনেস অফিসার ও মিলারস ফর নিউট্রিশন-এর গ্লোবাল মিলারস অ্যাডভাইজরি গ্রুপের সদস্য ফারিয়া ইয়াসমিন বলেন, পুষ্টি নিশ্চিত করা শুধু দায়িত্ব নয়- এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার।
কর্মশালায় একটি মুক্ত আলোচনায় ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স এসোসিয়েশন এর অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ, খাদ্যশিল্প প্রতিনিধি ও বেসরকারিখাতের অংশগ্রহণকারীরা সরকার, ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও উন্নয়ন সহোযোগী প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে সমন্বয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বিএএসএফ, মুলেন কেমি-এর প্রতিনিধি এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউপি) ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (জিএআইএন)-এর মতো উন্নয়ন সহযোগি সংস্থার কর্মকর্তারা।
সমাপনী বক্তব্যে মো. গুলজার আহম্মেদ অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই কর্মশালা একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। যেখানে প্রযুক্তি, নীতি ও প্রতিশ্রুতি এক সাথে হয়ে দেশের পুষ্টি ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করবে। এই কর্মশালা ছিল একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা বাংলাদেশে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক খাদ্য ফোর্টিফিকেশন কর্মসূচির প্রসারে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।







