সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি ডিপ্লোমা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের সংগঠন ডিপ্লোমা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর (ডিএমইএএবিএস)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক মিলনমেলা ও নৈশভোজ। গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার সিঙ্গাপুরের জুরং সাফরা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের পাশাপাশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সংবাদমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ও স্পনসররা অংশ নেন। এতে মিলনায়তনটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন সামাজিক ও পেশাগত সমাবেশে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার লুৎফুন নাহার। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. জাকির হোসেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক লিটন মোল্লা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল সম্মাননা প্রদান। এ সময় সংগঠনের উন্নয়ন ও মেরিটাইম খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য কৃতী সদস্য ও অ্যালামনাইদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (বিআইএমটি)-এর শিক্ষকবৃন্দকে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার তৈরিতে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। কমিউনিটি ও পেশাগত ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা প্রকৌশলীদের কৃতিত্বও আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিনোদনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল লাকি ড্র। এ পর্বে বিজয়ীদের মধ্যে স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট উপহার দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সদস্য ও তাঁদের পরিবার-পরিজনদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
প্রধান অতিথি লুৎফুন নাহার তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরছে। তিনি এই ধরনের সংগঠন ও সামাজিক উদ্যোগকে প্রবাসী কমিউনিটির শক্ত ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংগঠনের সভাপতি ড. জাকির হোসেন তাঁর বক্তব্যে প্রবাসে কর্মরত মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাগত সমস্যা সমাধান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলীদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি স্পনসর, অতিথি ও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষে আয়োজিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশীয় গান ও পরিবেশনার মাধ্যমে প্রবাসী জীবনের ব্যস্ততা কিছু সময়ের জন্য ভুলে যান উপস্থিত প্রকৌশলীরা। সবশেষে প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
ডিএমইএএবিএস-এর এই বার্ষিক মিলনমেলা শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে








