বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির একার আন্দোলনে স্বৈরাচার পালিয়ে যায়নি। এজন্য সব দল কাজ করেছে, সব মানুষ একত্র হয়েছিল বলেই স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে।
শনিবার বিএনপির ঘোষিত ‘৩১ দফা বাস্তবায়ন ও জনসম্পৃক্তকরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুর বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১০টা থেকে সদর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়াম হল রুমে আয়োজিত এই কর্মশালায় তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। কর্মশালায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরিয়তপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতারা অংশ নেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। প্রধান বক্তা ছিলেন ৩১ দফা প্রণয়ন কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মশালায় ২০ মিনিট বক্তব্য দেন তারেক রহমান। পরে নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
দেশ সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘গত দুই-তিন মাসে দেখেছি, বিভিন্ন ব্যক্তিরা বিভিন্ন সংস্কারের কথা বলছেন। তারা যে সংস্কারের কথা বলছেন, তা আমাদের এই ৩১ দফার মধ্যেই রয়েছে। ‘আমরা দুই বছর আগে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ৩১ দফা দিয়েছিলাম। আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার বিদায় নিচ্ছে।
তবে আমাদের জানা ছিল না, কবে স্বৈরাচারের বিদায় হবে।’ তিনি বলেন, ‘৩১ দফা অর্জনে কমবেশি তখনই করতে পারবেন, যখন জনগণের সমর্থন নিয়ে আপনারা সরকার গঠন করতে পারবেন। এ জন্য ৩১ দফাকে জনগণের দ্বারে দ্বারে নিয়ে যেতে হবে। ৩১ দফায় জনগণের সমর্থন নেওয়া এবং আস্থা অর্জন ও ধরে রাখার দায়িত্ব আমার, আপনার, আপনাদের সবার। জনগণকে আস্থায় রাখতে হলে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। আপনারা সবাই যে যাঁর অবস্থান থেকে কাজ করবেন। আপনারা প্রত্যেকে বিএনপির নেতা, অ্যাম্বাসেডর, বিএনপির প্রতিনিধি।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের ওপর জনগণের আস্থা আছে বলে আমাদের ঘরে বসে থাকলে চলবে না। আমরা যদি চুপচাপ বসে থাকি তাহলে কোনো কাজ হবে না। আমরা এমন কোনো ভুল চিন্তা বা কাজ যেন না করি, যাতে আমরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব। তাই যারা ভুল করছে তাদের বোঝাতে হবে, সতর্ক করতে হবে। সবাই মিলে আমাদের কাজ করতে হবে।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘মানুষ যদি না জানতে পারে বিএনপি কী চায়, জনগণের জন্য কী ভাবে, ছাত্রদের জন্য কী ভাবে, নারীদের জন্য কী ভাবে, কৃষকের জন্য কী ভাবে, শ্রমিকের জন্য কী ভাবে তাহলে জনগণের সমর্থন আমাদের ওপর থাকবে না। হয়তো একবারে আমরা পারব না। তবে আমরা সূচনা করে যেতে চাই। পরে ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলতে থাকলে পর্যায়ক্রমে আমরা একটা জায়গায় যাব। এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে চাইলে জনগণের সমর্থন দরকার।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা দেশে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। শুধু প্রধানমন্ত্রী বা এমপির জবাবদিহি নয়, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে সমাজের সব পর্যায়ে। মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান-সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল যেকোনো ব্যক্তি জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়।’ শেখ হাসিনার সময়ে জবাবদিহি ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জবাবদিহি থাকলে ফরিদপুর থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পাচার হতে পারত না।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা দেশের এমন এক অবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে চিকিৎসার জন্য মানুষকে দেশের বাইরে যেতে হবে না, ছাত্ররা শিক্ষাজীবন শেষ করে কাজ পাবেন, কৃষক তাঁর পণ্যের ন্যায্য দাম পাবেন। স্বৈরাচারকে যেভাবে আমরা একতাবদ্ধ হয়ে উৎখাত করেছি, তেমনি জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের জনগণকে আস্থায় রাখতে হবে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। জনগণের কথায় উঠতে, বসতে ও চলতে হবে। রাজনীতির মূল কথা হচ্ছে জনগণের আস্থা অর্জন। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে যে যে কৌশল আছে, তা আমাদের করে যেতে হবে।’
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির বিভাগীয় এ কর্মশালা শুরু হয়। এতে ফরিদপুর জেলা বিএনপি ছাড়াও রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।








