২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পরের বছর বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। দীর্ঘসময় পর লিওনেল মেসি-অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াদের হাত ধরে আবারও সোনালী যুগে ফেরে আলবিসেলেস্তে দল। উড়ন্ত ফর্মে থাকা আর্জেন্টিনা কোপার চলতি আসরে পৌঁছে গেছে ফাইনালে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ হতে চলেছে ডি মারিয়ার বিদায়ী মঞ্চ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সেটি জানিয়ে রেখেছেন তিনি। সেই দিনটি স্মরণীয় করতে চান বিশ্বজয়ী মেসি, বলছেন ডি মারিয়া।
নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বুধবার ভোরে আসরের প্রথম সেমিফাইনালে কানাডাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। গোল দুটি করেছেন লিওনেল মেসি ও জুলিয়ান আলভারেজ।
জয়ের পর অশ্রু আটকাতে পারেননি ডি মারিয়া। জাতীয় দল জার্সিতে খেলার শুরুটা খুব বেশি মসৃণ ছিল না ৩৬ বর্ষী মিডফিল্ডারের। বলেছেন, ‘আমার যা করা সম্ভব ছিল সবই করেছি, শুধুমাত্র নিজের চেষ্টাটাই করে গেছি। সবসময়ই নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা ছিল। এই জার্সির জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছি। এখানে এমনও সময় গেছে, যা আমার পক্ষে ছিল না। কিছুটা দেরিতে সেই ভালো সময়টা শুরু হয়েছে।’
‘আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা সবসময় আমাকে সমর্থন জুগিয়েছে। আমার পরিবার এবং আর্জেন্টিনা দল। মাঠে নামার আগে লিও আমাকে বলেছিল, আমার জন্য সে ফাইনালে পৌঁছাতে চায়। ওই মুহূর্তে গর্বে আমার বুক ভরে গেছে। শেষ সময়ে যা কিছু অর্জন করা সম্ভব, আমি সবই পেয়েছি। সবই সম্ভব হয়েছে তাদের সবার অংশগ্রহণে। তারাই আমার গর্বের উৎস।’
‘জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে আমি প্রস্তুত নই, কিন্তু সময় হয়ে গেছে। আমি এভাবেই বিদায় নিতে চেয়েছিলাম এবং সেভাবেই ঘটেছে সব, আরেকটি ফাইনালে পৌঁছে গেছি আমরা।’
‘সতীর্থরা সবাই জানে আমার আর ফেরার পথ নেই, সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আমার সিদ্ধান্তকে তারাও সমর্থন দিয়েছে। আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি, স্বপ্নের মতো শেষটা পাচ্ছি, যেমনটা আমি চেয়েছিলাম। যদিও মন বলছে আরও চালিয়ে যেতে পারব, তবে এটাই বিদায়ের সঠিক সময়। ফেরার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার ম্যাচের দর্শক হবো।’








