চট্টগ্রাম থেকে: টানা ছয় হার, এরপর সিলেটে দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে রেকর্ডগড়ে প্রথম জয়। চট্টগ্রামে এসেই ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ফের হেরে যায় ঢাকা ক্যাপিটালস। পরের ম্যাচেই সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছিল তারা। জয়ের ধারা বজায় রাখল চিটাগং কিংসের বিপক্ষেও। তানজিদ হাসান তামিমের অপ্রতিরোধ্য ব্যাটিংয়ে স্বাগতিক চিটাগংকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে চিত্রনায়ক শাকিব খানের মালিকানাধীন দলটি।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে চিটাগং। নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান তোলে স্বাগতিক দলটি। জবাবে নেমে ১১ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে ঢাকা। ১০ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এক লাফে টেবিলের চারে উঠে এসেছে ঢাকা। ১০ পয়েন্ট নিয়ে তিনে চিটাগং।
আগে ব্যাটে নামা চিটাগংকে ভালো শুরু এনে দেন নাঈম ইসলাম ও জুবায়েদ আকবরি। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪০ রান। ১৯ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান জুবায়েদ। দ্বিতীয় উইকেটে গ্রাহাম ক্লার্ককে নিয়ে ৪৯ রান তোলেন নাঈম। ১৮ বলে ১৯ রানে ফিরে যান ক্লার্ক। পরে দ্রুত দুই ব্যাটার ফিরে যান। ২ রান করে ৯১তে হুসাইন তালাত এবং ৯৬তে ফিরে যান নাঈম ইসলাম। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪০ বলে ৪৪ রান করে।
শামীম পাটোয়ারী ১৬ বলে ১৫ রানে এবং হায়দার আলী ১১ বলে ১৬ রানে ফিরে যান। খালেদ আহমেদকে নিয়ে সংগ্রহ ১৪৮ রানে পৌঁছান মোহাম্মদ মিঠুন। ৮ বলে ১২ রানে মিঠুন এবং ৬ বলে ৮ রানে খালেদ অপরাজিত থাকেন।
ঢাকার হয়ে নাজমুল ইসলাম ও মোসাদ্দেক হোসেন দুটি করে উইকেট নেন। মেহেদী হাসান রানা ও রন্সফোর্ড বেনটন নেন একটি করে উইকেট।
জবাবে তানজিদ তামিম ও লিটন দাসে ভালো শুরু পায় ঢাকা। উদ্বোধনীতে ৭৫ রান তোলেন দুজনে। নবম ওভারের শেষ বলে লিটন ২৮ বলে ২৫ রান করে ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। ১১১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ঢাকা। মুনিম শাহরিয়ার ফিরে যান ১৮ বলে ১২ রান করে। তার আগে একটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তানজিদ।
পরে সাব্বির রহমানকে নিয়ে ঢাকার তৃতীয় জয় নিশ্চিত করেন। তিন চার ও সাত ছক্কায় ৫৪ বলে ৯০ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিদ। চলতি আসরে তার চতুর্থ ফিফটি বা তার বেশি রানের ইনিংস এটি, এরমধ্যে একটি সেঞ্চুরিও রয়েছে। ৯ বলে ১৪ রান করেন সাব্বির।
চলতি আসরে এপর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রানের মালিক তানজিদ। ১০ ম্যাচে ৪২০ রান করেছেন টাইগার ওপেনার। পাশাপাশি ছক্কার রেকর্ডও করেছেন। এবারের আসরে এপর্যন্ত ২৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তানজিদ। বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এক আসরে এটি সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।
গতবছর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ১৪ ইনিংসে ২৪টি ছক্কা মেরেছিলেন তাওহীদ হৃদয়। এবার ১০ ইনিংসে তাকে ছাড়িয়ে গেলেন তানজিদ। সবমিলিয়ে এক আসরে তানজিদের চেয়ে বেশি ছক্কা আছে শুধু ক্রিস গেইলের (৪৭টি)।
চিটাগংয়ের হয়ে একটি করে উইকেট নেন হুসাইন তালাত ও আলিস আল ইসলাম।







