বঙ্গবাজার, নিউমার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের পর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে পুড়েছে শত শত দোকান। আগুন নেভানোর প্রথম উপকরণ পানি। অগ্নিকাণ্ডের স্থানগুলোতে পানির সংকটের জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ব্যাপক বেগ পেতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানী রাস্তায় ফায়ার হেইড্রেন্টের প্রয়োজন রয়েছে। তাহলে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে অনেক বেশি কার্যকর হবে।
আজ বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে এক হোটেলে দুর্যোগে সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ভিত্তিক মডেল প্রদর্শনের জন্য, বেসরকারি খাতের সাথে “টেকনোলজি ইন ডিআরএম টুওয়ার্ডস স্মার্ট বাংলাদেশ: অপর্চুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব এআইবিএস সলুশন ইন হ্যাজার্ড এনটিসিপেশন” শীর্ষক একটি অ্যাডভোকেসি ওয়ার্কশপে একথা বলেন বক্তারা।
অনুষ্ঠনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এআই সিস্টেমে ডিটেক্টর সিস্টেম অবশ্যই উপকারি ও প্রযুক্তিবান্ধব। আমরা কমিউনিটি বান্ধব অনেক কিছুই করি না। কমিউনিটিকে আমাদের উন্নত করতে হবে।
তিনি বলেন: ম্যানুয়াল দিন শেষ, এখন অটোমেটিক সিস্টেমের যুগ। ড্রোনই এখন অনেক কিছু করতে পারছে। আমাদের দেশে প্রচুর মেধাবী ছেলেমেয়ে আছে। তাদের আমরা ব্যবহার করতে পারি। নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা-পরিকল্পনা কাজে লাগানো সম্ভব।
তবে তিনি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) কে ইথিক্যালি যেন ব্যবহার করা যায় তার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এআই’কে যদি সঠিকভাবে আমরা ব্যবহার করতে না পারি, তাহলে এটি আরও ব্যাঘাত করতে পারে।
অগ্নিঝুঁকি হ্রাসে কমিউনিটি বান্ধব ব্যবস্থার গুরুত্বারোপ করে মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ঢাকার প্রত্যেক ভবনে পানির ট্যাংক আছে। সেটার সঙ্গে যদি ফায়ার হাইড্রেন্ট সংযুক্ত করে সড়কে স্থাপন করা হয়, তাহলে অনেক বেশি কার্যকর হবে প্রয়োজন মুহূর্তে।

তিনি কর্মশালায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে আগুন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রশংসা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএসএসএবি) যুগ্ম মহাসচিব জাকির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা চেষ্টা স্বত্ত্বেও সকল প্রতিষ্ঠানকে এক ছাতার নিচে আনতে পারিনি। এআই ডিটেক্ট সিস্টেম কোনো রকেট সিস্টেম নয়। চাইলেই সম্ভব এআই পদ্ধতিতে ভূমিকম্প ও অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ বার্তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, কৃষি মার্কেটে আগুন লাগলেও ডিটেক্ট করা সম্ভব হয়নি। কারণ সেখানে ডিটেক্টর ছিল না। এর ক’দিন পরই সেনা কল্যাণ ভবনে আগুন লেগেছিল। কিন্তু সেখানে আগুন খুব দ্রুত শনাক্ত ও নির্বাপনও সম্ভব হয়েছে। কারণ সেখানে প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল ডিটেক্টর ব্যবস্থার কারণে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বর্ণনা করার জন্য কর্মশালায় এআই ভিত্তিক মডেল প্রদর্শন করা হয়। এআই কিভাবে কাজ করে সেটা প্রদর্শন করে কর্মশালায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান বলেন, আগুন লাগলে এআই সিস্টেমে সংকেত আসবে। যাতে করে দ্রুত অগ্নিপরবর্তীতে দ্রুত নির্বাপন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
এআই অনেক সময় ফলস সংকেতও দেয়। তবে সেটা গুরুত্বহীন মনে করা যাবে না। সত্যি সত্যিই যদি আগুন লাগে তখন যদি গুরুত্ব না দেয়া হয় তাহলে বাঘের গল্পের মতো ঘটনা ঘটে যাবে। এআই সিস্টেমকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকরী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফগার মেশিনের ধোয়া, পাতা পোড়ানো, সিগারেটের আগুনকে এআই সিস্টেমে রিডিউস করা হয়েছে, যাতে ভুল সঙ্কেত না দেয়।
একটা ম্যাপের মধ্যে সব মার্কার থাকবে, কোথায় হোটেল, আবাসিক ভবন, মার্কেট আছে। কোথায় কেমন রাস্তা, কোন দিক দিয়ে আগুন লাগলে দ্রুত মুভ করা যায় সেটি ম্যাপ সংকেত দেবে। এটি প্রক্রিয়াধীন। কল্যানপুর বস্তিতে এটার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এজন্য কিন্তু বড় সার্ভার দরকার হবে। পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট রিগ্রেড না থাকলে এআই সফল হবে না। কারণ বিদ্যুত না থাকলে সিসিটিভি, ইন্টারনেটও ভাল কাজ করবে না। সেজন্য ব্যাকআপ বিদ্যুত সরবরাহ ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে অন্ততঃ চারঘণ্টার।
অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের সুপার প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম ম্যানেজার আ ম নাছির উদ্দিন বলেন, এআই প্রযুক্তির বড় সুবিধা হচ্ছে দ্রুত আগুন বা ধোয়া শনাক্ত করে জানান দেয়া। কিন্তু বঙ্গবাজারের আগুন কিন্তু ২/৩ ঘণ্টা জ্বলেছে। একইভাবে কৃষি মার্কেটেও আগুন লাগার অনেক পর খবর পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনের শুরুতেই যদি শনাক্ত করা যেতো তাহলে এতো বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতে হতো না। এক্ষেত্রে এআই হবে খুবই কার্যকরী।
ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ভাল প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সহনশীলতা তৈরির জন্য বিভিন্ন বেসরকারি খাতের সংস্থার অংশগ্রহণকারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(এআই) ভিত্তিক মডেলটি ইনস্টল এবং ব্যবহার করতে তাদের উৎসাহ প্রকাশ করেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মফিজুর রহমান।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড পারপাসের বিভাগীয় প্রধান (ডিআরএম অ্যান্ড ইআর ইউনিট) মাসুদ রানা সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ব্যবসায়িক ও শহুরে সম্প্রদায়ের মধ্যে দুর্যোগে সহনশীলতা গড়ে তোলার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিভিল প্রোটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশনসের (ইকো) আর্থিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে একশনএইড বাংলাদেশ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), ইউনাইটেড পারপাস এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।







