গেল শনিবার সন্ধ্যার পর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হচ্ছিলো নাটক ‘নিত্যপুরাণ’। বিক্ষোভের মুখে মাঝপথে নাটক প্রদর্শনী বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা।
এ নিয়ে শনিবার রাত থেকেই নেটমাধ্যমে চলছে তোলপাড়। শিল্পকলা থেকে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক জানিয়েছেন, কোন পরিস্থিতিতে তিনি নাটক বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। রবিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে বিস্তারিত বলেন তিনি।
এবার মাঝপথে নাটক বন্ধ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিলো ‘নিত্যপুরাণ’ এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘দেশ নাটক’। রবিবার রাতে দলটির মাসুম রেজার স্বাক্ষরে এক বিবৃতি প্রকাশ করে।
সেখানে বলা হয়, একজন সদস্যের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রথমে জাতীয় নাট্যশালার মূল গেইটে ব্যানার টানিয়ে ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দর্শকদের হলে প্রবেশে ‘বাধা দেওয়া হয়’। ব্যানারে পোস্টদাতা সদস্যকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। তারা দর্শকদের কাছ থেকে নাটকের টিকেট কেড়ে নেওয়া ও টিকেট কাউন্টারে হামলার মত ঘটনা ঘটায়। নাট্যাঙ্গনের সিনিয়র সদস্যদের কয়েকজন বিশৃঙ্খলাকারীর সাথে কথা বলেন এবং এক পর্যায়ে শিল্পকলার মহাপরিচালকও তাদের সাথে কথা বলেন। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে মহাপরিচালক প্রদর্শনী শুরু করার পরামর্শ দেন।
“নাটক যখন প্রায় শেষার্ধে, তখন জানা যায় যে শিল্পকলার মূল গেইটে পুনরায় মব সৃষ্টির চেষ্টা চলছে এবং শিল্পকলার গেইটের তালা ভাঙার তৎপরতা চালাচ্ছে তারা। প্রদর্শনী বন্ধ না করলে তারা নাট্যশালায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পকলার মহাপরিচালক পুনরায় উপস্থিত হয়ে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার সে চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি মঞ্চে এসে প্রদর্শনী বন্ধ করার ঘোষণা দেন।”
এ ঘটনায় দেশ নাটকের সদস্যরা ‘অত্যন্ত মর্মাহত’ হয়ে প্রদর্শনী বন্ধ করতে বাধ্য হন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
‘অনভিপ্রেত’ ঘটনায় নাটক বন্ধের জন্য আপামর দর্শকের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি ওই ঘটনার ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে দেশ নাটক।
সংগঠনের ভাষ্য, “মঞ্চ নাটকের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত হল নাটক শেষে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করা। সেটি করতে না পারার কষ্ট আমাদেরকে কতদিন বহন করতে হবে আমরা জানি না। আশা করি এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে দর্শকসহ সকল সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তি ও সংগঠন আমাদের পাশে থাকবেন।”







