আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: তারা (বিএনপি) গণতন্ত্র উদ্ধার করবে, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করেছে, তারা কখনও গণতন্ত্র চায় না। তারা শুধু ধ্বংস করবে।
শুক্রবার বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগ আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের এতো উন্নয়ন যারা চোখে দেখে না তাদের চোখের চিকিৎসার প্রয়োজন বলে এসময় মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন: যাদের চোখ অন্ধ আই ইন্সটিটিউটে গিয়ে চোখ দেখাতে পারেন। সেটি আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল। সকল আধুনিক যন্ত্রপাতি সেখানে আছে। ১০ টাকার টিকিটে খুব ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায় সেখানে। আমি নিজেও মাঝে মাঝে চোখ দেখাতে সেখানে যাই।
পেনশন স্কীম প্রসঙ্গে তিন বলেন: পেনশন স্কীম কখনও খোয়া যাবে না, এটা সরকারী কোষাগারেই জমা থাকবে। এটা নিয়ে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বলবো, এটা মিথ্যাচার।
ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে০ বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন:আজকের ছাত্রলীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে ছাত্রলীগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।৪১ এর বাংলাদেশ গড়ার কাণ্ডারী হবে তোমরা, এই অগ্রযাত্রা যেন কেউ ব্যাহত করতে না পারে ছাত্রলীগকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন বলেন: আমরা যদি শহীদের খাতায় চোখ বোলাই তাহলে দেখব ছাত্রলীগই বুকের রক্ত দিয়ে প্রতিটি অর্জন আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস- এই কথা বলে গিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ কথাটা অক্ষরে অক্ষরে সত্য। আমরা যে বিদেশে ছিলাম দেশে আসতে পারিনি, তখন আমাদের ফিরে আসার দাবিটা প্রথমে ছাত্রলীগ করে। এভাবে বাংলাদেশের যেকোনো দুর্যোগে ছাত্রলীগ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।
যোগ করেন: ছাত্রলীগ মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। পাকিস্তানের শাসকরা আমাদের মাতৃভাষা কেড়ে নেওয়ার জন্য উর্দু আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। প্রথমে আঘাত আসলো আমাদের ভাষার ওপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এটার প্রতিবাদ করেন।
সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়ানোর শপথ নিয়েছে ছাত্রলীগ।
এই শপথ বাক্য পাঠে ছাত্রলীগের সাদ্দাম হোসেন বলেন: আমরা বাঙালির মহান স্বাধীনতা ও পূর্বপুরুষের পবিত্র রক্তভেজা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের নবরূপে রূপায়ণের রূপকার, বাঙালির নির্ভরতার শেষ ঠিকানা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নামে দৃঢ়চিত্তে শপথ করছি যে, তারুণ্যের স্বপ্নের স্বদেশ পিতার কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা এবং কন্যার পরিকল্পিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপসহীন, অক্লান্ত, আমৃত্যু, সদা-সর্বদা সচেষ্ট থাকব।
যোগ করেন: আমরা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম, বঙ্গমাতার সাধনা, দেশরত্নের সাহসকে নিজের জীবন গঠনে ও সমৃদ্ধ স্বদেশ গড়তে মূলনীতি মানব। তারুণ্য লড়বে, তারুণ্য গড়বে, তারুণ্য দেশবিরোধী সকল অপশক্তিকে পিতার তর্জনীর দাপটে ধ্বংস করবে। বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে মর্যাদাশীল করতে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভূপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াবে। জাতির পিতার আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রশ্নে এ দেশের তরুণ প্রজন্মকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।








