বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র আর বিএনপি দুইটা সমার্থক। বাংলাদেশের মানুষ সবসময়ই গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। শুধু মুক্তিযুদ্ধ আর ভাষা আন্দোলন নয় সেই বৃটিশ আমল থেকে মানুষ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা সরকার দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে স্টিম রুলার চালিয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রাম করে আমরা একটা মুক্ত পরিবেশ পেয়েছি। গণতন্ত্র আর বিএনপি দুইটা সমার্থক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা নিয়ে এসেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর শাসন থেকে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা নিয়ে এসেছিলেন। একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু করেছিলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০ গণতন্ত্রের জন্য লাগসই সংস্কার দেয়। বছর দুয়েক আগে আমরা ৩১ দফা নিয়ে লড়াই করেছি। এই ১৬ বছরে আমাদের অনেক লোকের প্রাণ ঝরেছে, অনেকে কারাগারে গিয়েছে। অনেক রিকশা চালক গ্রামে থাকতে না পেরে শহরে এসে রিকশা চালিয়েছে, অনেক ছাত্র নেতা শহরে হকারের কাজ করেছে। গতকাল পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েছিলাম, দেখলাম ১৩ বছরের একটা ছেলের গুলি লেগে পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এই ত্যাগের মধ্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এগিয়ে চলেছে, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এগিয়ে চলেছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ছাত্র জনতার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার। আমরা এই সুযোগ যেন হেলায় না হারাই। আপনারা হচ্ছেন গণতন্ত্রের ভ্যানগার্ড, অতীতে লড়াই করেছেন, আপনারাই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করবেন। আবার যদি কেউ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায় তাহলে আপনারাই রুখে দাঁড়াবেন।
বর্তমানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মির্জা ফখরুল বলেন: এখনও আমলাদের মধ্যে সরকারের মধ্যে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ প্রেতাত্মা অবস্থান করছে। তারা গণতন্ত্রের সবকিছু নষ্ট করতে চাচ্ছে, চক্রান্ত করছে। এইসব চক্রান্ত রুখতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরবে, নেত্রী খালেদা জিয়া বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা শেষে ফিরে আসবে। যেভাবে আমাদের ছেলেরা বুকের রক্ত দিয়ে সুযোগ সৃষ্টি করেছে, বুকের রক্ত দিয়ে হলেও আমরা আবারও সেই সুযোগ রক্ষা করব। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করব।
সবশেষে মির্জা ফখরুল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ ও যারা আহত হয়েছেন তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারের কাছে দাবি জানায়।







