কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে নিহত ফেলানীর হত্যাকাণ্ডস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, ফেলানী হত্যাকাণ্ড সীমান্ত হত্যার প্রতীক হলেও ঘটনাস্থল চিহ্নিত করার কোন উদ্যোগ নেয়নি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। দেশি-বিদেশি অনেক মানুষ এখানে এলেও তারা প্রকৃত ঘটনাস্থল চিনতে পারেন না। এজন্য ফেলানীর হত্যাকাণ্ডস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা জরুরি।
সম্প্রতি ঢাকা থেকে গণমাধ্যম বিষয়ক সংগঠন মিডিয়া মনিটর এর প্রতিনিধি দলসহ সাংবাদিকরা ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এসময় এলাকাবাসী এসব কথা বলেন।
স্থানীয়রা বলেন, ২০১১ সালের সেই রাতে ফজরের কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ গুলির শব্দ হয়। এরপর ফজরের নামাজের পর জানা যায় সীমান্তে বিএসএফ গুলি করেছে। তিন-চার ঘণ্টা ফেলানীর লাশ ঝুলে ছিল কাঁটাতারে। এরপর একটি বাঁশে ঝুলিয়ে লাশ নেয় বিএসএফ। সংবাদমাধ্যমে এই ছবিগুলো প্রকাশের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিকভাবেও ফেলানী হত্যার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা ডা. আব্দুল ওয়াহাব বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও হয়নি। এখানে অনেক মানুষই ঘটনাস্থল দেখতে আসে। সীমান্তও পারাপার হয়। কিন্তু ফেলানীর হত্যাকাণ্ডস্থল কোথায় সেটি তারা জানতে পারে না। এটা দুঃখজনক। বিএসএফ সেখানে একটি লাল পতাকা টাঙিয়ে রেখেছে। আমরা চাই ঘটনাস্থলে বিজিবি অথবা বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ হোক। তাহলে মানুষ জানতে পারবে এখানে ফেলানী হত্যাকাণ্ড হয়েছিল।
তিনি বলেন, দুই দেশের সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনভাবেই কাম্য নয়। আমাদের এখানকার কৃষকরাও অনেক সময় আতঙ্কে থাকেন। বিএসএফ অনেক সময় এপাড়ে এসে কৃষকদের সাথেও ঝামেলা করে। আমাদের এখানে সবাই তো চোরাকারবারি নয়। কেউ অপরাধী হলে সেজন্য উভয় দেশের আইন-কানুন রয়েছে। গুলি করে হত্যা করা সমাধান নয়। আমরা এসব থেকে মুক্তি চাই।
ফেলানী হত্যাকাণ্ডের সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, একটা কিশোরী মেয়ে সীমান্ত পার হয়েছে। আমরা পরে শুনেছি দালালদের মাধ্যমে তারা পার হয়েছে। ভারতীয় সীমান্ত পার করার কথা বলে টাকা নেওয়া সেই দালালদের বিরুদ্ধে বিএসএফ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক। আমরা ঘটনাস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ চাই। যাতে আর কোন ফেলানীকে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে না হয়।

ফেলানীর পরিবারকে উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম বিষয়ক সংগঠন মিডিয়া মনিটর এর প্রধান সমন্বয়ক ও ইয়ুথ জার্নালিস্ট কমিউনিটির সভাপতি আহসান কামরুল, মিডিয়া মনিটরের সমন্বয়ক নাজমুল হাসান, বিজিবির মিডিয়া কনসালটেন্ট সাঈফ ইবনে রফিক, লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশনায় লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহ্ মো. শাকিল আলম ফেলানীর বাবার দোকানে অর্ধলক্ষাধিক টাকার মালামাল কিনে দেন। বিজিবির উদ্যোগে এ দোকানটি করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ফেলানীর বাবা মো. নুরুল ইসলাম।








