অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা ও অনলাইন গ্রুপের এমডি খান মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং সম্পত্তি ফেরতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্ত্বরে অনলাইন গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী আয়োজিত মানববন্ধনে ওই দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে বক্তৃতা দেন ভুক্তভোগী স্বপ্না আক্তার, মেজর (অব.) হারুন, ব্যারিস্টার সারোয়ার, আইয়ুব আলী ও আশরাফ আলী প্রমুখ।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, অনলাইন গ্রুপের এমডি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতা খান মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বিগত আওয়ামী সরকারের শাসনামলে ডিবি হারুন, আয়নাঘর জিয়া, মুজিব ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় বহু মানুষের জমি, ফ্ল্যাট, বাড়ি এবং অন্যান্য সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করেছেন। ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে বিচার প্রার্থনা করলেও, তার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তারা বলেন, অভিযুক্ত আক্তার জুলাই বিপ্লবের সময় সরাসরি ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ছিল। সেসময় ছাত্র-জনতার নামে একাধিক মামলাও দিয়েছিল আক্তারুজ্জামান। এমনকি ইসিবি চত্ত্বর বিভিন্ন দোকানপাট দখল করে নিয়েছেন। এছাড়া শত শত কোটি টাকা ব্যাংক থেকে অর্থ লুট ও বিদেশে অর্থ পাচার করেছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার ভয়ে কেউ কথা বলত পারত না। কারণ তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
ভুক্তভোগী স্বপ্না আক্তার বলেন, তার বাড়ির কাগজপত্র সব ঠিক থাকলেও আক্তার তার বাহিনী নিয়ে দখল করে নেয়। আদালতে রায় থাকা সত্ত্বেও নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না তিনি।
আরেক নারী বলেন, সেনা সদস্য স্বামীর মিশনের টাকা দিয়ে ইসিবি চত্ত্বরের পাশে আড়াই শতাংশ জমিতে বাড়ি নির্মাণ করি। ২০২৪ সালে বৃষ্টির কারণে বাসাতে পানি উঠে। পানি উঠে যাওয়ার কারণে অন্যত্র বাসা নেই। ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি আক্তার তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাসার সব লুটপাট করে নিয়ে যায়। আইনের সহযোগিতা চাইলেও থানা কোনো মামলা নেয়নি।
আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা মামলা ও ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও ভুক্তভোগীদের সম্পত্তি ফেরতের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।








