এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
নেপালের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের পর ভেঙে দেওয়া সংসদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। শনিবার আটটি দল এক যৌথ বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেলের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে সংসদ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন-ইউএমএল এবং মাওবাদী কেন্দ্রসহ দলগুলো উল্লেখ করেছে, নবনিযুক্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সুপারিশে প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়া হলেও তা নেপালের সাংবিধানিক ধারার পরিপন্থী।
রোববার ১৪ সেপ্টেম্বর বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
জেড-জি নামে তরুণদের প্রতিবাদ আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল সংসদ ভেঙে দেওয়া। তবে দলগুলো মনে করছে, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই আগামী ৫ মার্চ নির্ধারিত নতুন নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো সমাধান হওয়া উচিত।
সহিংস বিক্ষোভ ও অস্থিরতা
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। গণবিক্ষোভে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত ৫০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ক্ষুব্ধ জনতা রাজধানী কাঠমান্ডুতে সংসদ ও সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর পরই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন।
প্রেসিডেন্ট পৌডেল পরে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্যে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান ও সংসদীয় ব্যবস্থা টিকে আছে। ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের আরও দক্ষ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রথম নারী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী
৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি গত শুক্রবার রাজধানীতে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী। তাকে ব্যাপকভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী হিসেবে দেখা হয় এবং আন্দোলনকারী তরুণ নেতারাও তার নেতৃত্বকে সমর্থন জানিয়েছে।
কার্কির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভস্মীভূত সংসদ ও সরকারি ভবন পুনর্নির্মাণ, সহিংসতার দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং তরুণ প্রজন্মকে আশ্বস্ত করা, যারা পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
প্রতিবাদের মূল কারণ
সরকারের সিদ্ধান্তে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করা হলে প্রতিবাদের সূত্রপাত ঘটে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এটি দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অভিজাতদের প্রতি জনঅসন্তোষে রূপ নেয়। “নেপো কিড” নামে একটি প্রচারণায় রাজনীতিবিদদের সন্তানদের বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে ক্ষোভও আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
যদিও সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, ততক্ষণে বিক্ষোভ পূর্ণমাত্রার গণআন্দোলনে পরিণত হয়। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার পর এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে নেপাল। সৈন্যরা রাজধানীর রাস্তায় টহল শেষে ঘাঁটিতে ফিরেছে।








