আর মাত্র ৬ দিন পর ঈদ। পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগ করতে চাই মজাদার সব খাবারও।
কাচ্চি বিরিয়ানি
মাংস ৫ কেজি, পোলাও বা বাসমতি চাল ২ কেজি, ঘি ৪ কাপ, ভাজা আলু ১ কেজি, বেরেস্তা দেড় কাপ, আদারসুন বাটা আধা কাপ, জায়ফল গুঁড়া ১টি, জয়ত্রী গুঁড়া ১ চা চামচ, দারচিনি ৮-১০ টুকরা, এলাচ ৮-১০টি, লবঙ্গ ১০-১২টি, শাহি জিরা ১ চা চামচ, পেস্তা ও কাঠবাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ, টক দই ৩ কাপ, জাফরান ১/৪ গ্রাম, গোলাপজল ৪-৫ টেবিল চামচ, কেওড়া জল ৪-৫ টেবিল চামচ, আলুবোখারা ১৫টি, সাদা গোলমরিচ গুঁড়া ৩ টেবিল চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ২-৩ টেবিল চামচ, বড় এলাচ গুঁড়া আধা চা চামচ, মাওয়া ১ কাপ, মালাই ১ কাপ, গুঁড়া দুধ ১ কাপ, আটা ১ কেজি, লবণ পরিমাণমতো।

মাংস ধুয়ে লবণ দিয়ে মাখিয়ে ১ ঘণ্টা রাখুন। পাত্রে লবণ, শাহি জিরা, আস্ত এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা দিয়ে পানি ফোটান। পানি ফুটে উঠলে চাল দিন। চাল আধা সিদ্ধ হয়ে গেলে পানি ঝরিয়ে ঠান্ডা করুন। এবার লবণ মাখানো মাংস ধুয়ে সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দিয়ে মাংস মাখান। তেল ও ফেটানো টক দই দিয়ে আবারও মাখাতে হবে। ভাজা আলু, আলুবোখারা, মাওয়া, মালাই, বেরেস্তা, পেস্তা ও কাঠবাদাম কুচি ছড়িয়ে দিন। এক গ্লাস গরম পানিতে গুঁড়া দুধ মিশিয়ে তাতে জাফরান, গোলাপজল, কেওড়া জল মেশান। আধা গ্লাস দুধ মাংসের ওপর দিন। এবার রান্না করা আধা সিদ্ধ চাল মাংসের ওপর বিছিয়ে নিন। তার ওপর অবশিষ্ট দুধ দিন। আগে থেকে বানিয়ে রাখা আটার কাই দিয়ে হাঁড়ির মুখ বন্ধ করুন। এবার উচ্চ আঁচে ১৫-২০ মিনিট জ্বাল দিন। আঁচ কমিয়ে ২ ঘণ্টা দমে রান্না করুন।
সাদা মাংস
হাড় ছাড়া গরুর মাংস ১ কেজি, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, সিরকা আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি ২ কাপ, গোলমরিচ ১ চা চামচ, এলাচ ৩-৪টি, দারচিনি ২-৩ টুকরা, লং ৭-৮টি, কাঁচামরিচ ৩-৪টি, শুকনো মরিচ বিচি ফেলা জুলিয়ান কাট ৩-৪টি, ফেটানো টকদই ১ কাপ, ঘি বা তেল ১ কাপ।

কাঁচামরিচ ও শুকনো মরিচ বাদে বাকি সব উপকরণ এক সঙ্গে মাখিয়ে ১ ঘণ্টা রাখতে হবে। এর পর মাঝারি আঁচে সেদ্ধ করতে হবে। মাংস থেকে যে পানি উঠবে সেই পানিতেই মাংস সেদ্ধ হবে। দুই ভাগ সেদ্ধ হয়ে গেলে কাঁচামরিচ দিতে হবে। পানি শুকিয়ে যখন তেল ওপরে চলে আসবে, তখন শুকনা মরিচ দিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে।
শামী কাবাব
শামী কাবাব পাকিস্তানের একটি বিখ্যাত ঈদ স্পেশাল খাবার, যা গরু বা মুরগির মাংস, ডাল এবং নানা ধরনের মশলা দিয়ে তৈরি করা হয়। এই কাবাব তৈরির প্রাথমিক ধাপে গরু বা মুরগির মাংস ছোট টুকরা করে, মশুর ডাল, আদা-রসুন বাটা, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন মশলা যেমন ধনে, জিরা, এলাচ দিয়ে সিদ্ধ করতে হয়। সিদ্ধ মাংস এবং ডাল ভালোভাবে মিহি করে ব্লেন্ডার বা হ্যান্ড মিক্সারে পেস্ট বানিয়ে নেয়া হয়।

এরপর এই মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট বল বানিয়ে তা চ্যাপ্টা করে শামী কাবাবের আকৃতি দেওয়া হয়। কাবাবগুলোকে ডিমের মধ্যে ডুবিয়ে ফ্রাইং প্যানে তেলে ভাজা হয় যতক্ষণ না তারা সোনালি রং ধারণ করে। শামী কাবাবের বাহ্যিক ক্রিস্পি টেক্সচার এবং ভেতরের নরম মাংসের সংমিশ্রণ ঈদের খাবারের টেবিলে এক দারুণ স্বাদ যোগ করে। এটি সাধারণত পুদিনার চাটনি বা টক দইয়ের সাথে পরিবেশন করা হয়।
কুনাফা
কুনাফা হল আরব বিশ্বের ঈদ উৎসবের এক বিশেষ মিষ্টি যা ক্রিসপি কাতাইফি বা সেমাইয়ের স্তর এবং ক্রিমি পনির দিয়ে তৈরি হয়। এটি প্রস্তুতের জন্য প্রথমে সেমাইগুলোকে গলানো মাখন দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া হয়, যাতে তা সম্পূর্ণ ভিজে যায়। এরপর একটি বেকিং ট্রেতে সেমাইয়ের অর্ধেক অংশ সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এর উপর আরবীয় পনির (আকাওরি বা মোজারেল্লা) বিছিয়ে দেয়া হয়।

তারপর বাকি সেমাই পনিরের উপর ঢেকে দেয়া হয় এবং ওভেনে ৩০ মিনিটের জন্য বেক করা হয়। বেক করার পর, একপাশ লালচে হয়ে গেলে কুনাফার উপর সুগন্ধি সিরাপ ঢেলে দেওয়া হয়, যা চিনির সিরাপ, গোলাপজল এবং অল্প লেবুর রস দিয়ে তৈরি। কুনাফার উপর পেস্তা বাদাম ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয়। ঈদের সময় মধ্যপ্রাচ্যে কুনাফা একটি জনপ্রিয় মিষ্টি হিসেবে খুবই প্রশংসিত।
সেমাইয়ের শ্রীখান্দ
সেমাই- এক প্যাকেট, ঘি- দুই টেবিল চামচ, কনডেন্স মিল্ক- এক কাপ, দুধ- এক কাপ, ক্যাস্টাড পাউডার- এক চামচ, মিষ্টি দই- এক চামচ, চিনি- এক টেবিল চামচ এবং বাদাম, জেলো সাজানোর জন্য নিতে হবে।
প্রথমে সেমাইগুলোকে হাত দিয়ে ভেঙে নিতে হবে। তারপর একটা প্যান ঘি দিয়ে সেমাইগুলো ভাজতে হবে ৩-৪ মিনিট ধরে। তারপর কনন্ডেস মিল্ক এক কাপ দিয়ে ভালো করে নাড়তে হবে। যখন প্যান ছেড়ে দিবে, তখন একটা বাটিতে সেমাইগুলো চামচ দিয়ে ওই বাটির আকার দিতে হবে। সাবধানে বের করে রাখুন, এটা বেশ কিছু দিন রাখা যায়। ঠান্ডা হলে এয়ার টাইট জিনিসে ভরে রাখতে হবে। এভাবে তৈরি হবে ক্যাস্টাডটা।

এরপর দুধ এক কাপ চিনি দিয়ে জাল দিতে হবে। এবার ক্যাস্টাড পাউডার ফুটন্ত দুধে দিয়ে দিতে হবে। এবার মিষ্টি দই মিশিয়ে দিয়ে ফ্রিজে রাখতে হবে। এবার বাটিগুলো ক্যাস্টাডটা ভেতরে দিয়ে জেলো, বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন মজার শ্রীখান্দ।
ঈদে এই মজাদার খাবার গুলো রান্না করে নিজেদের প্রিয়জনদের সাথে ঈদ আনন্দ আরও দিগুণ করুণ।







